৮:২৬ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




ময়মনসিংহে বাঙালির প্রাণের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে গ্রামের খেজুর রস

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৬ এএম | নকিব


মিজানুর রহমান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ মাঝ কার্তিকে হেমন্তের পরশ, থেকে শীতের আমেজ আর উৎসবের মরসুম কাটতেই ময়মনসিংহবাসীর এখন চিন্তা এবছর শীত কালীপূজোর পর থেকেই ঠান্ডা  ঠান্ডা আমেজ অনুভব করা যাচ্ছে ,সকালে সুন্দর রোদ, তারপর সন্ধ্যা নামতেই হালকা ঠান্ডা অনুভূতি। 

ভোরবেলা কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে।  কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার খেজুরের রস। 

দেখা মিলছে না সারি সারি গাছ আর শিতের সকালে গাছালির রস আহরনের দৃশ্য এমনটাই জানালেন ময়মনসিংহের খেজুর রস প্রিয় মানুষ। খেজুরের রস গ্রাম-বাংলার একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য উপাদানের নাম। 

বাঙালির প্রাণের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা খেজুর রস সংগ্রহ এবং এর ব্যবহার চোখে পড়ে শীত মৌসুমে।  এ সময় আমন ধানের আগমন ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত গ্রামের মানুষগুলোকে। 

কিন্তু, এখন কৃষকদের ধান কাটতে দেখা গেলেও খেজুর রস সংগ্রহে দেখা মিলছে খুব কম সংখ্যক গাছীকে।  এক সময় লক্ষ্য করা যেত বিকালে খেজুর গাছের উপরিভাগে পরিষ্কার করে দাঁ দিয়ে কেটে মাটির তৈরি ছোট কলসী, হাড়ি দিয়ে সুবিধামত জায়গায় স্থাপন করে রস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হতো। 

তারপর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরবেলায় খেজুর রস সংগ্রহের ধুম পড়ে যেতে।  সংগ্রহের পর আগুনে তাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। ময়মনসিংহের স্থানীয় গাছী কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান,“যুগের পরিবর্তনে মানুষ একদিকে যেমন আধুনিক হচ্ছে।  অন্যদিকে, অতীত ঐতিহ্যকে ভূলে যাচ্ছে সুযোগ-সুবিধার আশায়।  মানুষ মনে করে খেজুর গাছ রোপণ করলে আয় কম, বছরে একবার খেজুর রস আসে।  কিন্তু, তার স্থানে যদি অন্য কোন গাছ লাগানো হয় তাহলে সে গাছের কাঠ ও ফল দু’টিই লাভ করা যায়”। 

তারা আরো বলেন, “অতীতের তুলনায় প্রায় ৯০ ভাগ খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।  যার কারণে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন গাছীরা।  তবে, বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি কেজি তরল খেজুর রসের দাম ৬০ আর খেজুর মিঠাইয়ের মূল্য ৮০ টাকা”। 

সাধারণত, খেজুরের রস দিয়ে খেজুর মিঠাই, সেমাই, ফিরনি, বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি করা হয়।  আর এগুলো তৈরিতে বিকল্প হিসেবে বর্তমানে চিনি ব্যবহার করা যায় বলে বিলুপ্ত হচ্ছে খেজুরের রস। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে খেজুর রসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি-৬, ক্যালসিয়াম (ঈধ), ম্যাঙ্গানিজ (গহ), ম্যাগনেসিয়াম (গম), সালফার (ঝ), আয়রন (ঋব), পটাশিয়াম (কধ) এবং শর্করা, আমিষ ও পলিক এসিড। 

যা মানবদেহের সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।  কালের পরিক্রমায় দিন দিন মানুষের চাহিদা অন্যরকম হওয়াতে কমেই চলছে খেজুর গাছের সংখ্যা। 

আর এর বিলুপ্ত ঠেকাতে খেজুর রসের উপকারীতা সম্পর্কে জানা খেজুর বৃক্ষ রোপন ও পরিচর্যায় সকলে এগিয়ে আসতে হবে।