৯:১১ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১




বাজার হারানোর শঙ্কা, অবৈধ পথে ঢুকছে নিম্নমানের চা

২১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০৮ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম:  সম্প্রতি চায়ের দর অস্বাভাবিক পড়ে যাওয়ায় দেশের চা-শিল্প সংশ্লিষ্টরা শঙ্কিত। 

বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিবেশী দেশের নিম্নমানের চা বৈধ-অবৈধ পথে ঢুকে দেশের বাজার দখল করছে। 

এতে দেশের ভালোমানের উন্নত চায়ের দাম পাওয়া যাচ্ছে না।  এ বছর উৎপাদিত বাম্পার ফলনের চা বিক্রি নিয়েও সংশ্লিষ্টরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। 

দেশের চা-বাগানগুলো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও বাগান মালিকদের আন্তরিকতায় ধারাবাহিকভাবে দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়ছে।  প্রাকৃতিক পরিবেশ চায়ের অনুকূলে থাকায় স্বাধীনতার পর চায়ের উৎপাদনে সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ফলন বাম্পার হয়েছে।  তারপরও চা সংশ্লিষ্ট মালিক-ব্যবসায়ীরা খুশি নন।  গ্যাস-বিদ্যুতের দাম চড়া, চায়ের নিলাম বাজারে অস্বাভাবিক দর পতনসহ নানা সমস্যায় উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়েই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। 

সেই সঙ্গে সীমান্ত পথে প্রতিবেশী দেশের বৈধ-অবৈধভাবে নিম্নমানের চা ঢুকে-দেশের বাজার দখল করছে।  অভিযোগ আছে, এসব চা কম দামে কিনে কিছু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি নিজ প্যাকেটে ঢুকিয়ে বাজারজাত করছে।  ১৯ নভেম্বর সবশেষ চা-নিলামে প্রতি কেজি দেশি চা-সর্বনিম্ন ৬৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।  অথচ এ সময় বিগত বছরগুলোতে এর দ্বিগুণ দামে চা বিক্রি হয়।  এতে  প্রতি নিলামে দেশীয় চায়ের দাম অস্বাভাবিক পড়ে যাওয়ায় অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। 

চা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় নিম্নমানের চায়ের অনুপ্রবেশে দেশীয় চায়ের ক্ষতি হচ্ছে।  এটা চা-শিল্পের জন্য হুমকি।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে রেকর্ড পরিমাণ চা-উৎপাদন করেও দেশের এ শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। 

শ্রীমঙ্গলের ক্লোনাল টির পরিচালক সৈয়দ মনসুরুল হক বলেন, ‘চোরাই পথে আসা নিম্নমানের চা আসতে থাকলে এটা উৎপাদনে অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।  আর এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। ’

বাংলাদেশীয় চা-সংসদের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় পাশের দেশ থেকে চা চোরাই পথে আসছে যা অত্যন্ত নিম্নমানের। ’

চা-বিশেষজ্ঞ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের চা যদি বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের চা বাগান টিকবে না। ’

চা-বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৯ সালে সাড়ে ৮ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  অক্টোবর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা। 


keya