১১:৫৭ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১




বোয়ালখালীর প্রথম স্মৃতিসৌধ সারোয়াতলীর কঞ্জুরী গ্রামে

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০৭ পিএম | নকিব


রাজু দে, বোয়ালখালী : বোয়ালখালীতে স্বাধীনতাযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে প্রথম স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিলো উপজেলার সারোয়াতলীর কঞ্জুরী গ্রামে। 

এ স্মৃতিসৌধ ঘিরে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল ‘শহীদ ভবন’ গড়ার।  শহীদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর রয়েছে স্মৃতি সৌধের পাশে। 

তবে ভবন আর করা হয়ে ওঠেনি।  অরক্ষিত রয়েছে বোয়ালখালীর প্রথম স্মৃতিসৌধ।  ১৯৭১ সালে দেশের মুক্তিকামী মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল।  ৭১ সালের ২৮ আগষ্ট বোয়ালখালী উপজেলা সদরে সিও অফিস রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে শহীদ হন এস এম ওয়াজেদ, রেজাউল করিম বেবী ও ওস্তাদ ফজলুল হক। 

শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নলীনি দাশগুপ্ত, অজিত বিশ্বাস, মনোরঞ্জন শীল, রনজিত মজুমদার, সমীর মজুমদার, দুদু মিয়াসহ আরো অনেকে। 

রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রæ মুক্ত হয়।  স্বাধীন দেশে শহীদের স্মরণে বোয়ালখালীতে প্রথম স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মুক্তিযোদ্ধারা।  এ লক্ষে উপজেলার সারোয়াতলী কঞ্জুরী গ্রামে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় স্মৃতিসৌধ।  ওই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেনা অফিসারসহ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। 

পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাবুদ্দিন খান এই ‘শহীদ ভবন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।  ভিত্তিপ্রস্তরেই রয়ে গেছে শহীদ ভবন।  নাম শহীদ ভবন হলেও ভবন নেই।  স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও সরকারিভাবে কোন ধরনের সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের পদক্ষেপও নেয়া হয়নি বলে জানান, এলাকাবাসী। 

সারোয়তলী কঞ্জুরী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুজিত নাগ বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মানপ্রদর্শন ও দেশীয় সংস্কৃতিতে জাগিয়ে তোলার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো।  এর ফলে অত্র এলাকায় দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। 

এ শহীদ ভবনে জাতীয় দিবসগুলোতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এলাকাবাসী।  তিনি আরো বলেন, ভবন আমরা করতে পারিনি, তবে এই ভবনের মাঠে আয়োজন করা হয়, অমর একুশ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিচারণ অনুষ্টান, গ্রামীণ লোকজ মেলা, খেলাধুলাসহ আলোচনা সভার।  এতে পদচারণা ঘটে দেশের বিখ্যাত নাট্যজন, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিদের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের। 

তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, আমরা নিজেদের যশ খ্যাতির জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি।  যুদ্ধ করেছিলাম মুক্তির জন্য, মা-বোনদের ইজ্জত ও দেশের মাটিকে রক্ষার জন্য।  একাত্তরের রণাঙ্গনের মাঠে যাদের দেখিনি, এখন তাদের দাপট অনেক বেশি।  স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর অনুষ্টান হয়, পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও একটি ভবন হয় না। 

আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যেই আমরা নামটিকে আঁকড়ে রেখেছি।  দেশীয় সংস্কৃতিতে জাগিয়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসলে সমাজ থেকে অপসংস্কৃতিরোধে ভূমিকা পালন করবে বলে অভিমত এলাকাবাসীর। 

এখন সময়ের দাবি একটি ভবনের।  সেখানে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশ মাতৃকার রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতি। 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সঠিক ইতিহাস ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরবে আগামী প্রজন্মরা। 


keya