১১:১৮ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১




ট্রেনে জন্ম নেওয়া সেই ’লালমনি’র বাড়িতে হঠাৎ হাজির জেলা প্রশাসক

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৭ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে জন্ম নেওয়া সেই শিশু ইব্রাহীম হোসেন ’লালমনি’কে দেখতে তার বাড়িতে হাজি হলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর। 

সোমবার শিশু ইব্রাহীম হোসেন ’লালমনি’র বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় যান তিনি। 

এসময় লালমনিরহাট এডিসি জেনারেল রফিকুল ইসলাম, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান, কালীগঞ্জ উপজেলা পিআইও কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ, চলবলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু ও কালীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলালও সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসকের। 

জানাগেছে, গত রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর কমলাপুর থেকে উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটগামী আন্তনগর লালমনি এক্সপ্রেসে করে নবিয়া ও তাঁর স্বামী ছকমাল মিয়া বাড়ি যাচ্ছিলেন।  ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁর প্রসব বেদনা ওঠে।  গভীর রাতে আশপাশে ট্রেন থামার মতো কোনো রেলস্টেশন ছিল না।  ফলে নবিয়া ট্রেনেই সন্তানের জন্ম দেন। 

ট্রেনটিতে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না।  ট্রেনের অন্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় নবিয়া সন্তানের জন্ম দিলেও তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না।  তাই সকাল ৭টার দিকে ট্রেনটি বগুড়া স্টেশনে থামলে নবিয়া ও তাঁর স্বামী সেখানে নামেন। 

৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সেখান থেকে বিষয়টি বগুড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।  পরে স্টেশন অফিসার আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রেলস্টেশন থেকে প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।  প্রসূতী নবিয়ার স্বামী ছকমাল মিয়া পেশায় দিনমজুর। 

রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন।  পোশাকশ্রমিক নবিয়া সন্তান পেটে আসার পর আর কাজে যাননি।  এই দম্পতির আগেও তিনটি ছেলে সন্তান আছে।  নবিয়া অন্তঃসত্ত্বা হলেও চিকিৎসকের কাছে যাননি।  কবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সেটাও অজানা ছিল এই দম্পতির। 

এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য পোশাক, প্রসাধনী, শীতের কম্বল তার পরিবারের জন্য শুকনো খাবারসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।  একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক আবু জাফর শিশুটির নাম রাখেন ইব্রাহীম হোসেন ’লালমনি’।  এ সময় শিশুটির মাসহ তার পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের দেয়া নামটি রাখতে হাসিমুখে সম্মত হন। 

প্রসূতি নবিয়ার স্বামী ছকমাল হোসেন জানান, ছেলে ’লালমনি’কে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে রেলের চাকুরীতে যোগদান করাতে চাই।  সকলের কাছে আমার সন্তান ’লালমনি’র জন্য দোয়া চাচ্ছি।    

চলবলা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু জানান,  আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।  প্রসূতী নবিয়া ও তাঁর নবজাতক সুস্থ আছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে শিশুটিকে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।  যথাযথ আদর-স্নেহ দিয়েই ওকে বড় করে তুলবেন।  এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। 


keya