৫:২১ এএম, ২৮ জানুয়ারী ২০২০, মঙ্গলবার | | ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১




নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০৫ পিএম | নকিব


মোঃ রাশেদুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের প্রত্যন্ত একটি উপজেলা বাগাতিপাড়া।  এ উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষের জন্য একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়েছে। 

এসবের কারণে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম। 

তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়াটার বরাদ্দ নাদিয়ে স্টাফদের কাছে ভাড়া আদায় করে সেই অর্থ আত্মসাৎ, কোয়াটারে সাবমিটার ব্যবহার না করায় বিদুৎ বিল ফাঁকি, অতিরিক্ত রোগী দেখিয়ে নার্সদের জন্য বিশেষ খাবার বরাদ্দ, ব্যক্তি স্বার্থে সরকারি গাড়ি ব্যবহার, এছাড়া স্বজন-প্রীতি করে বিধি বহির্ভুতভাবে পথ্য দ্রব্যাদির ঠিকাদার নিয়োগসহ নানা অভিযোগে উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

তবে কোয়াটারে থাকা স্টাফরা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী ওই ঠিকাদার। 

নাম প্রকাশ না করার সর্তে হাসপাতালের কোয়াটারে থাকা ভুক্তভুগীরা মুঠোফোনে জানান, চলতি বছরের বেশ কিছু নার্স যোগদান করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  প্রথমে তারা কোয়াটার বরাদ্দো নিলেও মূল ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দেন কোয়াটারে থাকতে হলে সেই অতিরিক্ত টাকা প্রতি মাসের এক তারিখের মধ্যে তার হাতে পরিষোধ করতে হবে ।  তার এমন অনৈতিক দাবির মুখে কোয়াটার বরাদ্দ বাতিল করে প্রতি মাসের এক তারিখেরে মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে কোয়াটার ভাড়া বাবদ মাথা পিছু এক হাজার টাকা করে প্রদান করে আসছে স্টাফরা।  আর সেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম। 

এছাড়া অধিকাংশ স্টাফ কোয়াটারে স্থাপন করা হয়নি বৈদ্যুতিক সাব মিটার।  ফলে হাসপাতালের মুল মিটার সরাসরি ব্যবহার করছে তারা।  এতে কোয়াটার ব্যবহারকারিদের বি্দ্যুৎ বিল পরিশোধ করার নিয়োম থাকলেও সাবমিটার না থাকায় বিদুৎ বিল ফাঁকি দিচ্ছে ব্যবহার কারীরা। 

অপরদিকে বিশেষ দিনে হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী দেখিয়ে দায়িত্বরত ডাক্তারর ও নার্সদের জন্যও খাবারের বরাদ্দে প্রমাণ পাওয়া গেছে।  কিন্তু কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অবগত করলেও গ্রহণ করেনি প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা। 

এছাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নামে কোয়াটার বরাদ্দ থাকলেও তিনি কোন দিনও সেখানে থাকেননি।  তার ব্যক্তি স্বার্থে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নাটোর থেকে বাগাতিপাড়া হাসপাতালে যাতায়াত করে থাকেন।  এছাড়া গাড়ির গ্যারেজ না থাকার অজুহাতে তিনি সরকারি গাড়ি তার বাড়িতে রাখেন কিন্তু সরকারি দুটি এ্যাম্বুলেন্সের একটি হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী গ্যারেজে থাকতে দেখা যায়। 

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে স্বজন-প্রীতি করে বিধি বহির্ভুতভাবে পথ্য দ্রব্যাদির ঠিকাদার নিয়োগ করার অভিযোগে নাটোর আদালতে মামলা দায়ের করেছে মেসার্স ইমন ট্রেডার্সের পরিচালক মোমিন উদ্দিন।  মামলাটি বর্তমানে চলমান। 

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, আগের পথ্য ঠিকাদার তার স্বাক্ষর জাল করে আদালতে মামলা করেছে ওই মামলার কোন ভিত্তি নাই। 

কোয়াটার ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করার কথা জনতে চাইলে তিনি তার সঠিক উত্তর না দিয়ে বলেন হাসপাতালের কোয়াটার বা ডরমেটরি সরকারি নিয়োম মেনেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

সরকারি গাড়ি ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।  এছাড় তার বিরুদ্ধে অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন তিনি। 

নাটোর সিভিল সার্জন ড. আজিজুল ইসলাম এব্যাপারে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।