৬:২১ এএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | | ৫ রজব ১৪৪১




পর্যটনকেন্দ্র রাঙ্গামাটিতে দেশি বিদেশী পর্যটকের ভীর,জমে উঠেছে ঝুলন্ত ব্রিজ, রাজবন বিহার সহ দর্শনীয়

১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৫ পিএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী: বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকার থাকলেও রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকাও অন্যতম। 

দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের মাঝে আছে পরিদর্শনের নানান স্থান।  বিশেষ করে শীতের মৌসুমে দেশ বিদেশের বহু পর্যটকের দেখা মিলে এই পার্বত্য এ। 

ঝুলন্ত ব্রিজ, রাজবন বিহার,রাজবাড়ী,সুবলং ইত্যাদি দেখার মত বিশেষ স্থান। 

এই রাঙ্গামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান এসব।  ঝুলন্ত ব্রিজ ও পর্যটন মোটেলঃরাঙ্গামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সরকরি পর্যটন মোটেল।  পর্যটকদের জন্য খুবই দৃষ্টিকাড়া ও আকর্ষনীয় স্থান এটি। পর্যটন মোটেলেই অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজটি, যা পর্যটন এলাকাকে আরও বেশি সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত করেছে।  সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে এটি। 

পর্যটকদের প্রধান আকর্ষনের কারনে এবং এর নির্মান শৈলির কারনে ঝুলন্ত ব্রিজ আজ রাঙ্গামাটির নিদর্শন হয়ে দাড়িয়ে আছে।  চমৎকার একটি জলপ্রপাত এই স্থানকে দিয়েছে ভিন্ন একটি চরিত্র। 

রাজবন বিহারঃরাজবাড়ির পাশেই আন্তর্জাতিক খ্যাত এই বৌদ্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।  এখানে অবস্থান করেন বৌদ্ব আর্য পুরুষ শ্রাবক বুদ্ধু সর্বজন পূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাসহবির বনভান্তে।  এই বৌদ্ব বিহারে প্রত্যেক বছরের কঠিন চীবর দানোৎসবে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। 

এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনাথী ও পুণ্যানর্থীর ভিড়ে মুখরিত থাকে রাজবন বিহার এলাকা।  এটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।  বেশ কয়েকটি বৌদ্ব মন্দির, বিশ্রামগার, হাসপাতাল, তাবতিংস স্বর্গসহ অনেক কিছু রয়েছে দেখার মত। রাজবাড়িঃরাঙ্গামাটি শহরেই অবস্থিত  রাজবাড়ি।  চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার মা রানী আরতি রায় এ রাজবাড়িতে থাকেন বর্তমানে।  চারদিকে হ্রদ বেষ্টিত এই রাজবাড়ি পুরনো হলেও দেখতে ও বেড়াতে ভীষন ভাল লাগে।   কাচারি, সজ্জিত কামানসহ দেখার মতো অনেক কিছু আছে।  রাজবাড়ীর নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজ বাঁশের ঝাড় আর পাখির কলকাকলি আপনাকে মহুর্তের জন্য অঁচল করে দেবে।  রাজবাড়ীর পাশেই উপজাতীয় নারীরা তাদের হাতে বুনা বস্ত্র সম্ভার নিয়ে বসে থাকে বিকিকিনির জন্য। 

এসব পন্য আপনার প্রয়োজনের পাশাপাশি মেটাবে রুচির তৃষ্ণা।  রাঙ্গামাটি শহর থেকে  কিলোমিটার ১০-১২ দূরে অবসথিত মনোরম এই ঝরনাটি।  এ ঝর্নার রূপ আপনাকে মোটেও আশাহত করবে না।  সময়টি যদি হয় বর্ষাকাল তবে আপনি সত্যিই ভাগ্যবান বলতে হবে।  কেননা এই সময় ঝর্না হয়ে উঠে নবযৌবনা, সয়ম্বরা।  অপলক দৃষ্টিতে সে ঝর্নার রূপ আপনি দেখবেন সম্মোহিত হয়। 

এই স্থানটি বেশ সাজানো গোছানো।  ফুলের বাগান, উচু বসার স্থান এবং হাটার জন্য ব্রিজ ও রাস্তা আপনাকে বিমোহিত করবে।  ঝর্নাস্নান কিংবা দর্শন শেষে আপনি সামনে এগিয়ে গেলে পাবেন সুবলং বাজার।  হ্রদের তীরে অবস্থিত স্থানীয় এই বাজারে রয়েছে একটি সেনা ক্যাম্প।  বাজারটি একেবারে ছোট নয়। 

এখানকার খাবার বেশ সুস্বাদু।  দুপুরের খাবারটি চাইলে এখানে সেরে নিতে পারেন।  হ্রদ থেকে ধরা মাছের ঝোল আর আলুভর্তা রসনা বিলাসের জন্য মন্দ নয়।