৪:১২ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১




সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই ব্যাংকিং কার্যক্রম!

১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: শুধু সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৩টি প্রতিষ্ঠান। 

আগেও সমবায় সমিতির অনুমোদন নিয়ে গড়ে ওঠা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ঠেকাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার সচেতন মহল। 

নাটোরে গত ১৬ বছরে সমবায় অধিদপ্তর ও সমাজ সেবার অনুমোদন নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।  এর মধ্যে ২০০৩ সালে আই টি সি এল প্রায় দেড় কোটি, ২০১৩ সালে একজিম প্রায় ৪০ লাখ, ২০১৫ সালে আর ডি সি প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ও চলতি বছর জনতা সোসাইটি প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। 

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই শুধু সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে আমানত সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে স্মল টের্ডাস কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক লিমিটেড, দি ঢাকা মার্কেটাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নামের ৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।  আর অতি মুনাফার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছেন অনেকেই।  অথচ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক নাম ব্যবহার করতে পারে না। 

নাটোরের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানুষজন এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে।  এক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের কড়া নজরদারি কামনা করি। 

তবে উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়েই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে দাবি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের। 

আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক লিমিটেডের বনপাড়া শাখার ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমানতকারীর আমানত এখানে বিনিয়োগ না করে হেড অফিসে পাঠানো হয় কিন্তু ফেরত দেয়ার সময় যখন সেটা হেড অফিস থেকে আসে না তখনই তারা পালায়। 

এদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা সমবায় অফিসের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।  তবে আইনি জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে একটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ। 

তিনি বলেন, প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কেউ কার্যক্রম চালালে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। 

নাটোর জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক শরীফ উদ্দিন বলেন, এরা বিভিন্ন জায়গাতে শাখা খুলে কার্যক্রম চালাচ্ছে। 

এ ব্যাংক ৩টি, ১১টি শাখার মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করছে।