২:৪৭ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | | ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১




ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু

২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৩ এএম | নকিব


মিজানুর রহমান.ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহে নদী রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর তীরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। 

সোমবার সকাল থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে ব্যাপক তোড়জোর নিয়ে ময়মনসিংহের প্রধান নদী পূরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনায় উচ্ছেদ পরিচালনা করে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের চরঈশ্বরদিয়া মৌজায় নদের জায়গায় ৯শ ২৬টি এবং পৌর মৌজায় (বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন) ১শ’ ৮৯টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।  উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে এসকোভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নদের তীরে জায়গা দখল করে গড়ে উঠা শতাধিক পাকা আধাপাকা ও টিনশেড অবৈধ স্থাপনা। 

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট আবুল হাশেম ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।  এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।  এসময় উচ্ছেদ অভিযান দেখতে শতশত উৎসুক জনতা অভিযান স্থলে ভিড় করেন। 

এদিকে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অনেকেই মাথা গুঁজার ঠাঁই হারিয়ে ছিন্নমূল হয়ে পড়েছেন।  অনেকেই পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বেরি বাঁধে ও নদের চরে খোলা আকাশের নীচে।  অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় অবৈধ দখলকারীরা অভিযোগ করেন, তাদেরকে জিনিসপত্র সড়ানোর যথেষ্ট সময় না দিয়েই বুলড্রোজার দিয়ে সবকিছু গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।  এতে তারা তাৎক্ষনিকভাবে আশ্রয় হারা হয়েছেন। 

অনেকেই নিজেদের ভূমিহীন উল্লেখ করে তাদেরকে বাড়ি ঘরের জায়গা দিয়ে সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। 

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দেড়িতে হলেও বর্তমান সরকার একটি যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  আমাদের দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। 

নদী রক্ষায় নদীর তীরে গড়ে উঠা সব ধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর হতে হবে। 

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসান বলেন, ময়মনসিংহের পাটগুদাম এলাকা থেকে কাচারীঘাট পর্যন্ত প্রায় ১২শ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।  তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। 


keya