১২:৫০ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার | | ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১




চ্যাম্পিয়ান রাকিবুলের বাড়িতে টিনের ছোট্ট একটি ঘর

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:৫৪ পিএম | নকিব


মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ  অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ান বাংলাদেশ দলের সদস্য রাকিবুল হাসানের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরে। 

জয় উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণসহ বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল হয়েছে তার গ্রামে।  তাকে নিয়ে সর্বত্রই আলোচনার ঝড় বইছে। জানা যায়, ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে রূপসী ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের ছেলে রাকিবুল হাসান।  তবে জন্মের পর থেকে রাকিবুল হাসান গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেনি। 

রাকিবুলের বাবা শহীদুল ইসলাম ঢাকায় থাকেন।  তিনি পেশায় একজন গাড়ি চালক।  রাবিকুল পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন।  তবে বছরে বেশ কয়েকবার গ্রামে বেড়াতে যান রাকিবুল হাসান। 

ওই সময় গ্রামের কিশোরদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান।  রূপসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেটও খেলেন। 
গতকাল সোমবার  রাকিবুল হাসানের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছোট্ট পুরানো বাড়ি রাকিবুল ইসলামের।  আজও বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি।  বাড়িতে কেউ না থাকায় রাকিবুলের ফুফা কামাল হোসেন তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। রাকিবের ফুফু রোখসানা খাতুন জানান, রাকিবুল ইসলাম বেশি পড়তে চাইত না।  সুযোগ পেলেই ক্রিকেট খেলায় লেগে যেত।  এ জন্য আমরা বিরক্ত থাকলেও আজ সে দেশের মুখ উজ্জল করেছে।  এখন আমরা খুবই আনন্দিত। 

গ্রামের বিভিন্ন বয়েসি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাকিবুল যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন, এ খবর টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জানে গ্রামবাসী।  বিশেষ করে গ্রামের কিশোরেরা বেশি খবর রাখে।  বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মানুষ রূপসী বাজারে গিয়ে রাকিবুলের খেলা দেখেছে। 

গ্রামে ঢুকতেই দেখা হয় মিজান, এবাদুল, শাহরিয়ার ও মামুন মিয়ার সঙ্গে।  তারা চারজই রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।  গ্রামের ছেলের এমন কৃতিত্বে তারাও বেশ আপ্লুত। তারা জানায়, রাতে বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ হলেও খেলা দেখার জন্য পরিবারের অনুমতি নিয়ে গত রোববার রাতে রূপসী বাজারে বসেই খেলা দেখেছেন।  টানা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজায়ের শেষ রানটা আসে রাকিবুলের ব্যাট থেকে।  এ আনন্দের ঘোর কাটছেই না তাদের।  রাতেই গ্রামের মানুষ রাকিবুলের দলের জয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।  এ চার কিশোরই রাকিবুলকে চিনে।  এক বছর আগে রূপসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তারা রাকিবুলের খেলা দেখেছে। 

বাশাটি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, গ্রামে এখন বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম চলছে।  মানুষের দম ফেলার সময় নেই।  এমন দিনে রাকিবুলের সাফল্যের খবরে গ্রাম গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমের সাংবাদিকেরা এসেছে।  এটি তাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। আবদুল হামিদ বলেন, খেলা এত বুঝি না।  তবে গ্রামে সাংবাদিক আসায় এতটুতু বুঝেছি যে, আমাদের গ্রামের ছেলে বড় কিছুই করেছে। গ্রামের মানুষের এ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে চান রাকিবুল হাসানের বাবা শহীদুল ইসলাম।  গতকাল দুপুরে বাশাটি গ্রামে থেকেই মুঠোফোনে কথা হয় শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। গ্রামের মানুষের বাঁধভাঙা আনন্দের খবর শুনে রাকিবুল হাসানের বাবা বলেন, ছেলে (রাকিবুল) দেশে আসলেই তাকে নিয়ে গ্রামে আসব।  গ্রামের মানুষদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব।  তবে দেশের আসার পর কয়েকদিন হয়তো আনুষ্ঠানিকতাতেই কেটে যাবে।  এরপরই গ্রামে আসব।