৩:৩৪ এএম, ৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার | | ৫ শা'বান ১৪৪১




শ্রীপুরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ-বানিজ্যের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ!

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৩ এএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ-বানিজ্যের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছেন চালকরা।  তবে, তিন চাকার যান নিয়ে মহাসড়কে উঠতে না পেরেই এমন অপবাদ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি। 

সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যান চলাচলের নিরাপত্তা চেয়ে এমন বিক্ষোভ করেছেন তারা। 

এ সময় মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ যান ধরার নামে অর্থ বানিজ্যের প্রতিবাদে মিছিল করে কয়েকশত চালক। 

পরিবহন চালকদের দাবী, সরকার মহাসড়কে তিনচাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করার পর হতে সেই অজুহাতে মহাসড়ক ও এর আশপাশ এলাকা সকালে বা ভোরে বিভিন্ন সিএনজি ষ্টেশনে জ্বালানী আনতে গেলে পুলিশ গাড়ী আটকিয়ে থানায় নিয়ে যায়।  এছাড়াও মহাসড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকেও ব্যাটারী চালিত যান জব্দ করে তারা।  পরে সারা রাত ব্যাপী দরদাম করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন ।  পুলিশ  এখন মহাসড়কের নিরাপত্তার পরিবর্তে অর্থ বানিজ্যে জড়িয়ে গেছে বলেও জানান তারা। 

পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের সিএনজি চালক মাহাবুব মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে জ্বালানী নিয়ে ফেরার পথে মাওনা চৌরাস্তায় আমার গাড়ী আটক করেন পিএসআই আইয়ুব আলী।  পরে বিভিন্ন ভাবে অনুনয় বিনয় করলেও তারা গাড়ী ছাড়েননি।  পরে অন্যের কাছ থেকে সুদে ৬০০০ টাকা নিয়ে পুলিশকে দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নেই। 

তেলিহাটি ইউনিয়নের বেলাল হোসেন  জানান, গত মাসে কাঁচামাল নিয়ে মহাসড়কের পাশে এমসি বাজার সংযোগস্থলের ষ্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম।  সেখান থেকে পুলিশের এক সোর্স গিয়ে আমার গাড়ীসহ আরো ৫টি গাড়ীর চাবী থানায় নিয়ে যান।  পরে পুলিশের এস আই মারফত আলীকে ৪৫০০ টাকা দিয়ে গাড়ী ছাড়িয়ে নিতে হয়।   তিনি আরো বলেন, সরকারী আইন মেনেই আমরা মহাসড়কে গাড়ী চালাই না।  তারপরও টাকার জন্য বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কেও হানা দিয়ে গাড়ী আটক করেন পুলিশ। 

গড়গড়িয়া মাষ্টার বাড়ী এলাকার আসাদ মিয়া জানান, তিনি শ্রীপুর-মাষ্টারবাড়ী আঞ্চলিক সড়কে গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।  গত ৮ ফেব্রুয়ারী মাষ্টারবাড়ী থেকে এক সোর্সের মাধ্যমে তার গাড়ী জব্দ করেন এস আই মারফত আলী।  পরে ৬হাজার টাকার বিনিময়ে  তিনি গাড়ী ছাড়িয়ে নেন। 

অর্থ- বানিজ্যের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে কোন ভাবেই এসব তিন চাকার যানবাহন চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা যাবেনা।  আর মহাসড়কে উঠতে না পেরেই তিন চাকার যানবাহনের চালকেরা এমন অভিযোগ করছেন।  এ থানায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ বানিজ্যের কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি। 

গাজীপুরের হাইওয়ে পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসড়কে তিনচাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ।   এসব যানবাহন মহাসড়ক থেকে পুলিশ আটক করে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক।  তবে, অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যান আটক করে ছেড়ে দেয়ার কোন ঘটনা তিনি অবগত নন।  এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।