২:২৬ এএম, ৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার | | ৫ শা'বান ১৪৪১




শ্রীপুরে অর্থ নিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির তেলেসমাতি কান্ড!

০২ মার্চ ২০২০, ১০:১৭ এএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেববী সংগঠন প্রদত্ত অর্থ দিয়ে ১৫৬ জন এস.এসসি পরীক্ষার্থীর বোর্ড ফি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর সেই টাকা নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে। 

১ মার্চ রবিবার উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আলহাজ্ব নওয়াব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়। 

জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণসহ আনুষাঙ্গিক কিছু খরচ দেখিয়ে  অগ্রণী ব্যাংকের মাওনা চৌরাস্তা শাখা একাউন্ট থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়।  যদিও এ টাকা একটি স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের প্রদান করার কথা।  কিন্তু এর জন্য কোন রেজুলেশন করা হয়নি।  এ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও দাতা সদস্যদের  মধ্যে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য জানান, জায়েদ আলী ফকির ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন বিদ্যালয়ের ১৫৬ জন এস.এসসি পরীক্ষার্থীর বোর্ড ফি প্রদান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।  পরে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯শত ৩০টাকার চেক তুলে দেন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী ফকির।  পরে বিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্টে চেক কি কালেকশনের জন্য ব্যাংকে জমা দেন প্রধান শিক্ষক।  কিন্তু ফি দেওয়ার শেষ দিন ওই ফাউন্ডেশনের চেকটি বিদ্যালয় এর একাউন্টে কালেকশন হয়নি।  কারণ ওই ফাউন্ডেশন এর একাউন্টে কোনো টাকা নেই।  এমন বেকায়দায় পড়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির শরনাপন্ন হন প্রধান শিক্ষক।  তখন তিনি প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের টাকা পরিশোধ করার জন্য বলেন।  এতে প্রধান শিক্ষক অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে এক প্রকার জৌশল প্রয়োগ করে বিদ্যালয় এর একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেন সভাপতি মো.লিয়াকত আলী ফকির। 

তিনি আরো জানান, এ নিয়ে মাননীয় সাংসদ সদস্যের সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় প্রধান শিক্ষককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে সভাপতি লিয়াকত আলী ফকির। 

এ বিষয়ে সভাপতি কর্তৃক গালিগালাজের বিষয়ে স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুর রউফ সরকার জানান, উনি আমাকে গালি দিয়েছে।  আমি উনার কথার উত্তর দেইনি।  আমি অসৎ উপায়ে কোন টাকা নেয়ার চিন্তাও করিনা।  সভাপতির দেয়া ফাউন্ডেশনের একাউন্টে টাকা না থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছিল।  তিনি টাকা দিয়ে দিবেন বলে জানিয়েছেন। 

বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য নেয়ার প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. লিয়াকত আলী ফকিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ওই বিদ্যালয়ে চেক থেকে টাকা উত্তোলনের একটি ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি।  বিস্তারিত জেনে তারপর বলতে পারবো।  তবে, আমার জানা মতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একজন সৎ ও মেধাবী ব্যক্তি। 

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন জানান, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।  খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।