১০:৪২ এএম, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার | | ১০ শা'বান ১৪৪১




চাকুরির আশায় বড় বাবুদের দরবারে এসিড দগ্ধ তুলি !

০৫ মার্চ ২০২০, ০৯:৫৬ এএম | নকিব


সোহেল রানা,হিলি প্রতিনিধিঃ- এসিডদগ্ধ নারীরা সমাজের বোঝা নয়।  তারাও আট-দশ জন স্বাভাবিক নারীর মতো বাঁচতে চায়।  সমাজ আজ কোথায়,তারা পায় না কেন যথাযথ মর্যাদা। 

সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও পাচ্ছে না যোগ্যস্থান এসিড দগ্ধ জলি আক্তার তুলির মতো সমাজের অনেক তুলিরা।  তাদের ও স্বাধ জাগে অন্যান্য মেয়েদের মতো ঘর বাঁধতে। 

এসিডদগ্ধ অভিশাপ জীবনে পাচ্ছে না তারা মাথা গোজার একটু ঠাই।  শত বাধাবিঘœ অতিক্রম করে বি,এ পাশ করে একটু মাথা উঁচু করে বাঁচার তাগিদে একটি চাকরীর জন্য তুলি ধর্না ধরে ঘুরছে বিভিন্ন মহলে। 

কান্না বিজড়িত কন্ঠে সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে এসিড় দগ্ধ জলি আক্তার তুলি বলেন, আমি বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান। ছোট থেকে হিলি হাসপাতাল মোড় এলাকায় নানা বাড়িতে থাকে পড়ালেখা করতাম। 

নানা মৃত ইদ্রিস আলী ও মামা সাইদুল ইসলাম।  এইসএসসি পাশের পরে ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আমার জীবনে নেমে আসে এক কালবৈশাখী ঝড়।  নানা বাড়িতে শুয়ে থাকা অবস্থায় সেদিন এক বখাটে ঘরের ছাপরায় উঠে টিনের ফাঁক দিয়ে আমার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।  এসিডে পুড়ে যায় আমার গলা থেকে কোমড় পর্যন্ত। 

বিদেশী একটি সংস্থার খরচে চিকিৎসা শুরু হয় আমার।  এসিড নিক্ষেপকারী আটক হয়।  এখনও মামলা চলমান রয়েছে।  আসামী জামিনে বেরিয়ে ঘুরছে।  দির্ঘদিন এসিডে পোড়া শরীরের জ্বালা নিয়ে অতিবাহিত করেছি হাসপাতালে।  গলা থেকে কোমড় পর্যন্ত ঝলসে গেছে।  অনেক যন্ত্রনা আর ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে লেখাপড়া আমি বাদ দেইনি।  ১৫ সালে এইসএসসি ও ১৮ সালে বি,এ পাশ করেছি। 

আক্ষেপে বলতে শুরু করল,আমি এসিড দগ্ধ নারী তাই সমাজ সংসারে কোন স্থান বা মুল্যায়ন পাচ্ছি না।  বিয়ের বয়স হয়েছে, বাবা-মার মাথায় বোঝা হয়ে গেছি।  তারা বিয়ে দিতে চায়।  একের পর এক বিয়ের ঘর আসে,কিন্তু বিয়ের ঘর ভেংগে যায়।  কেননা আমি এসিড দগ্ধ মেয়ে।  কান্নার গতি তুলির আরও বেড়ে যায়,বিদ্রহীকন্ঠে তুলি বলে আমি আর কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।  নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে এই এসিডদগ্ধ শরীর নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবো।  তাই ১৮ সালে বিএ পাশ করে একটি চাকরীর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছি।  এ পথ চলা যেন শেষ হচ্ছে না আমার। 

তুলির মামা সাইদুল ইসলাম জানান, তুলি আমার আদরের ভাগ্নি।  ছোট থেকে সে আমাদের বাসায় থাকে।  একজন বখাটে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।  তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারনে তার উপর এসিড নিক্ষেপ করে।  দির্ঘ তিন মাস তাকে ঢাকায় বিদেশী (এএফএফ) একটি সংস্থার সাহায্যে এসিড সার্ভায় হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। 

হাকিমপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রিন্সিপাল মোছাঃ-কামরুন্নাহার রোজি জানান, তুলিকে আমি ছোট থেকে চিনি, সে আমার বাড়ির পাশে তার নানার বাড়িতে থাকে। 

সে জয়পুরহাট জেলার সদর থানার চিরলা গ্রামের জহির উদ্দিনের ছোট মেয়ে।  খুব ন¤্র ভদ্র ও অমায়িক প্রকৃতির মেয়ে সে।  তার কষ্টগুলো আমাকে অসহনীয় করে তুলে। 

অনেক কষ্ট করে সমাজের সাথে লড়াই করে নিজেকে শিক্ষিত করে তুলেছে তুলি।  আমাদের সবার উচিৎ এই অবহেলিত মেয়েটার পাশে দাঁড়ানোর।  আমি আশা করছি সমাজের বৃত্তবান ও সরকার যেন অসহায় এসিডদগ্ধ তুলির দিকে সাহায্যের হাত বারিয়ে দেন।