৪:৪৭ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




সমাজে আপনার ভূমিকা কেমন? আস্থার নাকি হেনস্তার?

১০ মার্চ ২০২০, ১০:২৬ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: আমরা প্রতিটি মানুষ কোনো না সমাজে বসবাস করছি।  সে সুবাদে আমরা সামাজিক জীব এবং সমাজের একজন। 

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে  এই একজনই সমাজে মানুষ হওয়ার পেছনে রয়েছে অনেক লুকায়িত স্মৃতি যা বাস্তবতা থেকে পাওয়া।  সমাজের এই একজন মানুষটি হয়ে উঠে একদিন "সমাজ নিয়ন্ত্রক বা সমাজের কর্ণধার। 

কোনো কিছু পেতে হলে কিছু হারাতেও হয়।  এই কথাটি সামনে রেখে আসলে আমরা যারা এই উপরের অবস্থানে যেতে চাই বা পৌঁছে গেছি তা আমরা কতটুকু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি? নাকি হুট করে উড়ে এসে জুড়ে বসেছি? নাকি নিজেই ক্ষমতার অপব্যবহার করলাম? নাকি কারো ইশারায় পুতুল হিসেবে কলকাঠি নাড়ি? যদি নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেন তাহলে সুপ্ত চিন্তা শক্তি দিয়ে বলতে পারেন না- আমি আমার এই অবস্থানে আসার পেছনে রয়েছে অনেক দিনের পরিশ্রম-মেধা-সততা যা আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে।  তাহলে আপনি সমাজের একজন সমাজপতি,সমাজের কর্ণধার ও সমাজ নিয়ন্ত্রক। 

আমরা যখন সমাজের একজনে পরিণত হই তখন আমাদের উপর অর্পিত হয় সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব।  সেটা সমাজ প্রদত্ত হোক কিংবা সবার সম্মতিক্রমে হোক তখনই আমরা এই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই।  আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি কিনা? সামাজিক শৃঙ্খলা-শিক্ষা-ঐক্য-নিয়মনীতি-ভ্রাতৃত্ববোধ-নৈতিকতা ইত্যাদি পর্যালোচনা যা সুন্দর সমাজ উপহার দিতে এই নিয়ামকগুলো অপরিহার্য।  সব কিছুর উর্ধ্বে থেকে আমরা আমাদের এই দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনে কতটুকু অগ্রসর বা সফল তা আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করি।  আসলে সমাজে আমার দায়িত্ব কু ছিলো, যা আমি সঠিকভাবে পালন করছি? আমরা যারা সমাজে বসবাস করছি তাতে আমরা কোনো না কোনো একটা পর্যায়ে আছি। 

হয় বয়োজ্যেষ্ঠ-মধ্য-নাহয় অল্প বয়সী, এই তিন শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্যে যিনি বয়স্ক তিনি মধ্য বয়স্ক ব্যক্তির কাজ করা কষ্ট অনুভব করবে।  ঠিক তেমনি মধ্য বয়সের কাজগুলো অল্প বয়েসীদের বেলায় মানায় না।  সুতরাং আমরা আমাদের বয়স অনুযায়ী যে যে অবস্থানে আছি তার সম্মান রেখে যাবতীয় কাজ করতে সক্ষম কিনা? নাকি তার অধিক আশা করছি যেটার ফলে অন্যজনের দু’কথা শুনতে হয়।  আমাদের মনে রাখতে হবে সমাজের ভালোটায় আমরা চাই।  তাই ভেবে কাজ করা, যেন সমালোচনার পাত্র না হই।  কেউ মন্দ কথা বলুক সেটাও কাৃনা কামনা করি না।  এটাও মনে রাখা উচিৎ এখানে কেউ বেতনভুক্ত কর্মচারী নয়।  গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামত প্রকাশ করাই হোক এই শ্রেণির মূল উদ্দেশ্য। 

আমরা জানি সামাজিক কর্মকাণ্ড যারা নিয়ন্ত্রণ করে যাদের অংশগ্রহণে সামাজিক কার্যাদি সম্পন্ন হয় তাঁরা সমাজের "মাথা"।  সমাজের হয়ে " কর্ণধারই-সমাজের পক্ষ হয়ে কথা বলে।  হয়তো সবার সম্মতিক্রমে দায়িত্ব অর্পণ করা হয় কথা বলার জন্য অথবা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় উনিই সমাজের "কর্ণধার"-যাদের আমরা সমাজপতি বলি।  এখন কথা হলো কয়জন ব্যক্তি এমন পদে থেকে সমাজের সঠিক সিদ্ধান্তে থেকে  "ন্যায়ের" কথা বলে? আপনি যদি সমাজপতি হোন তাহলে আপনাকে ন্যায়ের ভিতর থেকে  সবাইকে সমান চোখে দেখে সংখ্যাগরিষ্ঠের পদ অবলম্বন না করে, যুক্তি সংগত ন্যায়ের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে যান, তাহলে সমাজের উন্নয়ন হবে। 

আপনাকে শ্রদ্ধা করবে, না হয় কিছু লোকের কাছে স্থান পাবেন হৃদয়ে কিন্তু বাকি  সবার অন্তর থেকে ঘৃনারপাত্র হয়ে যেতে হবে।  সুশৃঙ্খল সমাজ যখন সবার নজরে আসে তখন ঐ সমাজে সকল ব্যক্তিরাই সেই সমাজ নিয়ে গর্ববোধ করতেই পারে।  এখন কথা হলো সেই সুশৃঙ্খল সমাজ যখন কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কিংবা গুটি কয়েক লোকের জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা দে, সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায় তখন কিন্তু সে সমাজ সামনের দিকে অগ্রসর হয়না। 

সে ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কি ছিলো? বস্তুত আপনি কি সুন্দর সমাজ বিনির্মানের পক্ষে কাজ করেছিলেন? নাকি সমাজ নষ্ট হওয়ার জন্য, আপনার আধিপত্য খর্ব হবে তা ভেবে উল্টো সমালোচনায় মেতে উঠেছিলেন? যা সমাজ বিশৃঙ্খলার জন্য অন্যতম কারণ,যদি তা নাহয় তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সুন্দর আগামী।  কেননা উদ্দেশ্য ছিলো মহৎ যা ভালো কাজে বাধা অতিক্রম করছেন।  আমাদের মনে রাখতে হবে আমরাই যেহেতু সমাজ বিনির্মানের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি তাহলে এটাও মনে রাখা উচিৎ, সমাজ যে সিদ্ধান্ত নিবে তা আমরা মাথা পেতে নিব।  কেননা সে সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই একা একা নেওয়া হয়নি, যেখানে হয়তো আমি উপস্থিত হতে পারি নাই কিংবা ইচ্ছা করে অনুপস্থিত।  এটাও হতে পারে "সে সিদ্ধান্তটি আমার মনের মতো হয়নি। " তারপরেও সবাই যখন সম্মতি প্রদানের মাধ্যমে "সিদ্ধান্ত-নিয়েছে আমাকে তা পালন করা উচিৎ। 

এক্ষেত্রে আপনার মন মানসিকতা বা বিবেক কি বলে তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন যে, আমি কি " সমাজ"- যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে স্থিী আছি বা মেনে নিয়েছি? যদি না নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার নিশ্চুপ থাকাটাই সম্মতির লক্ষণ।  এক্ষেত্রে সমালোচনা করা আপনার মুখে শোভা পাবে না। আমাদের মাঝে একটাই চিন্তা-চেতনা থাকে আমরা কারো চাইতে কম নই।  বাস্তবতা এমন যে, আপনার অর্থ -বিত্ত -আভিজাত্য -বংশ পরিচয়-সামাজিক পদ মর্যাদা সব দিক বিবেচনা করে আপনিই সিদ্ধান্ত নিন সমাজের কোন পর্যায়ে আপনার অবস্থান।  তা যদি না ভাবেন তাহলে আপনি আপনাকে নিয়ে যা ভাবছেন তা কিন্তু আপনি  নন। 

কেননা আপনার চেয়ে যোগ্য ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক হয়তো আরো অনেক আছেন যা আপনাকে গ্রহণ করছে না। আবার অনেকেই আছে জনহিতকর কাজে এগিয়ে এসে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন হয়তো দেখা যায় সেটি একান্ত উদারতার জন্যে, জনপ্রিয় হওয়ার জন্যে নয়।  এক্ষেত্রে আপনি যা পারেননা বা সক্ষম নন সেহেতু আপনার  মুখে তাঁর সমতুল্য ও ভাবতে পারেননা। 

এইবার ভাবুন আপনি কি জনহিতকর কাজে সমালোচনা করবেন? নাকি উৎসাহিত করবেন? আসুন সমাজকে  সুন্দর করার জন্যে নিজেকে গড়ে তুলি এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সবার সাথে কাজ করি। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।