৫:২৭ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




টাকা নিলেও সরেনি সড়কের খুঁটি,৪ বছরে ১৫ ভাগ কাজ

১৬ মার্চ ২০২০, ১০:০১ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, রংপুরের বুড়িমারী পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে চার বছর আগে। 

কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ।  অন্যদিকে বরাদ্দ টাকা পরিশোধ করা হলেও সড়ক থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরায়নি বিদ্যুৎ বিভাগ। 

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ‌সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনোমিক কো-অপারেশন (সাসেক) রোড কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-২ এর আওতায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল।  ২০২১ সালের আগস্ট মাসে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।  প্রকল্পের আওতায় উন্নত দেশগুলোর মতোই আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে এ চার লেনে।  সড়কের দু’পাশে ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য আলাদা লেনও তৈরি করা হবে, যার ফলে এটি ছয়লেনে প্রশস্ত হবে। 

এদিকে সড়ক প্রশ্বস্ত করার জন্য সড়ক থেকে খুঁটি সরানোর জন্য আজ থেকে ৯ মাস আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে টাকা পরিশোধ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।  অথচ এখনও সড়কের খুঁটি সড়কেই রয়েছে।  ফলে প্রকল্পটি নির্দিষ্ট মেয়াদে সম্পন্ন হচ্ছে না।  ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন বছর বৃদ্ধি করে ২০২৪ সাল নাগাদ করার পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। 

প্রকল্পের পরিচালক কাজী শাহরিয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ১৫ শতাংশ।  ফলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।  আমরা ৯ মাস আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে টাকা পরিশোধ করলেও এখনও বিদ্যুতের খুঁটি সড়কেই রয়ে গেছে।  খুঁটি অপসারণ না করে সড়ক সম্প্রসারণ করা কঠিন। ’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের অন্য চারলেন মহাসড়কের চেয়ে এটি আধুনিক হবে।  সড়কজুড়ে ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার পরপর উন্নত দেশগুলোর আদলে প্রায় ৮০টি আধুনিক ‘বাস-বে’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের কাছে এসব ‘বাস-বে’ নির্মাণ করা হবে, যেন এসব এলাকায় কোনো ধরনের জটলা তৈরি না হয়।  এড়ানো যায় অনাঙ্ক্ষিত বা দুর্ঘটনা। 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র আরও জানায়, এর পাশাপাশি মহাসড়কে ২ হাজার ৬৩৫ মিটারের তিনটি ফ্লাইওভার, ৪১১ মিটারের একটি রেলওয়ে ওভারপাস, ৩২টি ব্রিজ, ১৬১টি কালভার্ট, ১১টি পথচারী ওভারপাস, ৩৯টি আন্ডারপাস এবং একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে। 

প্রকল্পের মোট ব্যয় ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।  প্রকল্পের সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।  বাকি অর্থ আসবে প্রকল্প সাহায্য থেকে।  প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল।