২:৫৫ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর অপরাধে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭

১৮ মার্চ ২০২০, ০২:১৫ পিএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী, চট্টগ্রাম : সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানুষের মাঝে আতংক তৈরীর জন্য আলোচিত রোগ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে। 

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭ এ ধরনের গুজবকারীকে গ্রেফতারের লক্ষে ব্যাপক মনিটরিং শুরু করেছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে , একজন গুজবকারী ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত রোগ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে মিথ্যা ও ভীতি প্রদর্শক তথ্য ভিডিও ক্লীপ তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে প্রেরণ ও প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতংক সৃষ্টি করে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচারের নিমিত্তে মোবাইল ফোন এবং নানা রকম ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে গুজব রটানোর কাজে লিপ্ত আছে। 

ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতার এক পর্যায়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, উক্ত গুজবকারী চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন কাজীর দেউরী এলাকায় অবস্থান করছে।  উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন কাজীর দেউরী এলাকায় এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামের উত্তর পার্শ্বে স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ চিটাগাং স্পোর্টস এর সামনে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে আসামী আহমেদ কামরুল হাসান @ রুমী (৩৫), পিতা- মোঃ আবুল বশর, গ্রাম- ডুম, থানা- মীরসরাই, জেলা- চট্টগ্রাম, বর্তমানে বাড়ড়ী নং-০১, রোড নং- ০১, ফ্ল্যাট নং- ৬/সি, সেক্টর- জি, থানা- হালিশহর, জেলা- চট্টগ্রাম মহানগর’কে গুজব রটানোর কাজে ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল সেট ও ০২ টি সীম কার্ডসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। 

পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীর উদ্ধারকৃত মোবাইল বিশ্লেষণ করে ‘ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উক্ত ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ হতে ১৫/০৩/২০২০ খ্রিঃ তারিখ ১৫০২ ঘটিকায় সারা বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত রোগ ‘‘করোনা ভাইরাস’’ নিয়ে মিথ্যা ও ভীতি প্রদর্শক তথ্য উপাত্ত দিয়ে ৫৩ সেকেন্ডের ০১ টি ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়, যাতে সে জানায় চট্টগ্রামে অবস্থিত হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ০৪ জন শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

উক্ত তথ্যের মাধ্যমে চট্টগ্রামের হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।  

উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এধরণের গুজব ছড়ানোর কথা স্বীকার করে।  তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  

সহকারী পুলিশ সুপার ,সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ মাহমুদুল হাসান মামুন প্রতিবেদককে জানান,  গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।