২:০৮ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




কি হবে?পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র দিয়ে, যদি আল্লাহর ভয়ে বুক না কাঁপে?

১৮ মার্চ ২০২০, ০৬:২৩ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: বিশ্বে ভ্যাটো প্রদানকারী দেশ রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি,যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র,চীন-জাপান-যারা অন্যান্য দেশ সমূহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

বিশ্বের যে দেশ অন্যায়ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয় সে দেশকে আল্লাহ হেফাজত করে আর অত্যাচারী রাষ্ট্রের উপর গায়েবি গজব নাজিল হয় হয়তো তারা সেটা বিশ্বাস করবেনা। 

মহান আল্লাহ পাক  যখন তাঁর ইশারায় তুফান,দাবানল, টর্নেডো, কলেরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৃষ্ট দূর্যোগ দিয়ে থাকেন, তখন কিন্তু কোনো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকেনা তার মোকাবেলা করার।  যতই নিরাপত্তা বেষ্টনী কিংবা পদক্ষেপ নেওয়া হোক কেন তাতে কোনো লাভ নেই যদি সেটা উপর-ওয়ালা রক্ষা না করেন।  তিনি চাইলে সমস্ত দূর্যোগ সেকেন্ডের মধ্যে থামাতে পারেন,চাইলে তামাম দুনিয়া ধ্বংস করতে পারেন। 

অথচ আমরা  সেটা ভুলতে বসেছি আর নিজেদের জাহির করতে চাই সমরাস্ত্র-সাবমেরিন-যুদ্ধবিমান-পারমাণবিক বোমা দিয়ে।  আমরা কি অতীত থেকে এই শিক্ষা নিতে পারি না, যতোবারই নিজেদেরকে শক্তিধর রাষ্ট্রে বিশ্বে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে ততবারই পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দে, ভ্যাটো প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলো কই তখনতো তাদের উপর অ্যাকশনে যায়না! কথায় আছে না, "শক্তের ভক্ত-নরমের জম"। 

যতোসব অত্যাচার, নীপিড়ন,জ্বালা নির্যাতন দূর্বলের উপর।  এতো অহংকারী শক্তিধর রাষ্ট্র দিয়ে কি হবে? মহাপ্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস-মহামারির প্রাদুর্ভাব থেকে কি কখনো কোনো রাষ্ট্রকে সে শক্তি দিয়ে রক্ষা করতে পেড়েছে? পারেনি কখনো পারবেওনা কেননা সকল শক্তির মালিক একমাত্র আল্লাহতায়ালা।  তাদের শক্তি দিয়ে কখনো বৃষ্টি থামাতে পেড়েছে? মেঘলা আকাশকে কখনো রৌদ্রময় দিনে যেমন দেখানো সম্ভব হবে না তেমনি যতই পৃথিবীর বুকে শক্তির বাহার করো কোনো লাভ নেই। 

যেখানে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে সেখানে অলৌকিক ক্ষমতা গুণে স্বয়ং আল্লাহ সহায়তা করছে আর ঐ সমস্ত নির্যাতনকারীরা বুঝতে পারছে তিলে তিলে,সেখানে ইসলাম জিন্দা করার জন্যে তাদের সাহায্য প্রয়োজন পড়েনা আল্লাহ প্রদত্ত রহমতের দরজা খুলে যায়।  তিনিই সাহায্যকারী।  আজ বিশ্ববাসী অবাক আর হতাশায় রাত্রিযাপন করছে তার কারণ একটায় নিশ্চয়ই ঐসব স্থানে আল্লাহর নাফরমানি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যার জন্য আল্লাহর " আরশ" কেঁপে  উঠছে তার পরিণতিতে এই ক্ষণ দেখতে হচ্ছে।  আমরা ভুলে যায় কেন? "করোনা"-ভাইরাসের আগে আরো মহামারী কি সে শিক্ষা দিয়ে যায়নি? সবি পাপের প্রতিফলন সে যে ধর্মের হোক না কেন " পাপ কখনো বাপকেও ছাড়েনা"। 

এটা আমাদের মনে রাখা উচিৎ।  আজ পবিত্র মক্কায় আল্লাহর "তাওয়াফ"-বন্ধ,মসজিদে নামাজ বন্ধ,বহির্বিশ্বে জনগন গৃহবন্দীর মতো একটা পর্যায়ে অবস্থান করছে।  ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুতে কোনো জানাজা নেই, লোকসমাগম নেই, কঠিন নিরাপত্তার বলয়ে ঢাকা চারিপাশে আর যখন শুনা যায় নোংরা-আবর্জনায় দায়ী ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে তখন মাথায় আসে যেসব দেশে তীব্র আকারে এই মহামারি ছড়িয়েছে সে দেশ আমাদের দেশ থেকে বহুগুণে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন।  মূল কথা হলো সেটা না,,,কথা হলো গোপনে হলেও সেসব জায়গায় মুসলিম নিধনের অপচেষ্টা চলছে, তা নাহলেও নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়েছে। 

আজ যদি ভাইরাস না হয়ে কোনো মনুষ্য সৃষ্টি হতো সেখানে এতোক্ষণে মৃত্যুপুরীতে পরিনত করতো।  আজ বিশ্ব মুসলিম নিরাপদ আশ্রয় চাই, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও মাইকে " আযানের" অনুমতি মেলে অথচ সেখানে কয়দিন আগেও আযান মাইকে দেওয়া নিষিদ্ধ ছিলো। 

মৃত্যুর ভয় সবার আছে তা নাহলে কোথায় এখন পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো? মোকাবেলা করেন এখন এই ভাইরাস থেকে।  আল্লাহর ভয়ে যতোক্ষণ বুক কাঁপবেনা ততোক্ষণে কোনো শক্তি দিয়ে কাজ হবেনা।  বিশ্ববাসীকে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কেউ রক্ষা করতেও পারেন না। 


লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।