১০:৫৩ এএম, ৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১২ শাওয়াল ১৪৪১




মানুষের লাগামহীন মুখের কথা, মানব অন্তরে বাড়ে ব্যাথা

০৫ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫৪ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম:  বাংলাদেশ সরকারের রাজ-কোষাগারে বিরাট একটি অংশ যোগ হতো মানুষের লাগামহীন কথার উপর যদি TAX বা " কর"-নির্ধারণ করে দেওয়া যেতো। 

হয়তো প্রথম বাক্যে আমার লেখনীতে হাসছেন, কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আমার-আপনার- আমাদের আশেপাশে  অহরহ লোক রয়েছে যারা কাজের চাইতে কথা বেশি বলে। 

অযথা কথা বলার অপরের সমালোচনা করার লোক পথে-প্রান্তরে বিচরণ করে।  কোনো কারণ ছাড়ায় অন্যজনের কথায় বাম হাত ঢুকিয়ে দে,আর বিরূপ মন্তব্য করে বসে। 

এমন লোকও আছে যাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য তাঁর সমতূল্য সে নয়তো নয় এমনকি কোনো যোগ্যতায় রাখেনা।  দেখা যাবে এখন একজনের কিছুক্ষণ আরেকজনের এইভাবে সে, যে জায়গায় অবস্থান করে সে জায়গাটা সমালোচনার স্থানে পরিণত হয় এবং যা বলে তা শতভাগ সত্যি কিন্তু বিরূপ মন্তব্যকারী বুঝে উঠতে পারেনা তার কথাকে কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না বরং তার কথার সাথে "হা"-না- সম্মতি প্রদান করছে আর যতই মাথা নেড়ে সম্মতি জ্ঞাপন করে তার কথা বলার ধরণ আরো উচ্চস্বরে উচ্চারিত হয়।  যে কথা যখন-তখন বলা উচিৎ নয়, সে কথা যেখানে-সেখানে বলাও উচিৎ নয়। 

কথা বলার সৌন্দর্যের যখন ব্যতিক্রম হয় তখন তার -সৌন্দর্য্য হারায়, যেইমাত্র কথা বলার ধরণ পাল্টে যায় মুখে যা আসে তা বলে যায় তখন কোনো কথারই ভিত্তি থাকেনা।  মূল্যহীন হয়ে পড়ে - সবি যেন ঝগড়ায় রূপ নে সেসময় পুরনো ইতিহাস আর ১০০বছর আগে কি হয়েছে না হয়েছে সবি তুলে পরিবেশটাকে এক অসাস্থ্যকর-হ-য-ব-র-ল পরিবেশে রূপ ধারণ করে যদি কথা বলার সময় অযৌক্তিক কিংবা যা নয় তার বেশি বাড়িয়ে বলা, গালমন্দ করা, অপমানজনক কথা, কাউকে উদ্দেশ্য করে বলার কারণে কথায় কথায় Tax আরোপ করা যেত তাহলে আমি আমরা কেউ কথা বলার ক্ষেত্রে লিমিট ক্রস করতাম না। 

ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারের  রাজস্ব খাতে যেত।  আমরা এমন কেন জানিনা যেখানে যায় সেখানেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ি, প্রত্যেক এলাকায় এমন কিছু লোক থাকে তাদের কাছে মনেহয় দিনকে রাত বললে সবার কাছে সেটা রাত আর রাতকে দিন বললে সবার কাছে সেটা দিন।  কোনো জায়গার আন্তর্জাতিক কিংবা লোকাল খরব নাহয় কোনো স্থানে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা যেখানে হতাহত-আহত বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কথা চলছে ঠিক সেসময় সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং বানোয়াট মন্তব্য করে,যেখানে হয়তো নিহতের সংখ্যা ০১ সেখানে বলে বেড়ায় ১০. যেখানে সংবাদ মাধ্যমে বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১লক্ষ তাঁর মুখে শুনবেন ১০লক্ষ।  একথায় চট্টগ্রামের ভাষায় "বুম"-মারা বলা হয় ঐসব কথাগুলো যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন কিন্তু সেটা গুজব হলেও অনেকের নিকট তা সত্যিই রূপ পাই কারণ কোনটা সঠিক কোনটা গুজব বুঝা মুশকিল। 

আর যখন সেসব কথাগুলোর কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায় তখন যেন মনেহয় ভাঁজা মাছ উল্টায় খেতে জানেনা।  আর দোষ স্বীকার করবেতো দূরে থাক মনে হবে সে এইমাত্র দুনিয়াতে আগমন হইলো। এই গুজব রটানোর ফলে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে-হচ্ছে যা বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  আবার কিছু কিছু পরিবেশে দেখা যায় সামনা-সামনি দোষত্রুটি তুলে ধরে অপমানজনক কথাবার্তা বলে হাসি-তামাশায় মেতে উঠে আর অন্তরে আঘাত নিয়ে স্থান ত্যাগ করে তৎক্ষণাৎ মনপ মনে অশালীন ভাষায় গালিও দিয়ে বসে বস্তুত যাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি যাদের নিয়ে করা হচ্ছে তাদের ভেতরে। 

কারণ কেউ থাকে আড়ালে কেউ থাকে সামনে সুতরাং যে সামনে থাকে সে কিন্তু বীর আর যে আড়ালে থাকে আর কাউকে দোষী সাবস্ত করাই সে যে কাপুরুষ সেটা বিবেচনা করা হয়না।  আমাদের একটা বড় সমস্যা হলো প্রকৃত দোষীদের দোষ প্রকাশ পাওয়ার পরেও বিচারকার্যে বিলম্বিত করে হয়তো দেখা যাবে ঐ বিচারকার্য করতে গেলে নিজের উপর এসে পড়বে তাই গড়িমসি করে একট সিদ্ধান্তে চলে যায়।  আর যার উপর প্রেসার ক্রিয়েটি করতে পারবে তার অপরাধ যদি সামান্যও হয় তাহলে তাঁর বারোটা বাজায় ছাড়বে। 

তখন কিন্তু আগের পরিবেশটা বিরাজমান থাকেনা সৃষ্টি হয় গ্রুপিং-এ যা মোটেও কাম্য নয়। 

আমরা বেশিদূর আগাতে পারিনা কারণ আমরা কাজের চাইতে কথা বেশি বলি,যা বলা দরকার তার চাইতে বেশি বলি, যা বলা দরকার তা না বলা, এককথায় মুখের কথার উপর আমরা অনেক কিছু হারাচ্ছি আর হারাবো,আর হারানোর পরে তা আমরা বুঝবো। 


লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।      
             সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।