১:১৪ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




আত্বহত্যা ছাড়া কোন উপায় নেই এমন মন্তব্য এক তরুন ব্যাবসায়ীর

০৮ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫৪ পিএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী, চট্টগ্রামঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রিয়েল এস্টেট খাত। 

কারণ এই খাতের সাথে অনেকগুলো শিল্প জড়িত।  

আবাসন শিল্পে ৩৫ লাখ নাগরিকের কর্মসংস্থান জড়িত।  ডেইলি বেসিস এখানে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করে।  আবাসন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।  ফলে অর্থনীতিতে সূদরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

এতে আরও বলা হয়, ২০১১ সালে আবাসন খাতে যে সংকট তৈরি হয় সেটা দূর করতে প্রায় কয়েক বছর লেগে যায়।  খাতটি সংকট কাটিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তখনই করোনার আঘাত শুরু হয়েছে।  বর্তমান সময়ে যে সংকট তা থেকে রক্ষায় এখনই কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি চারটি দাবি জানিয়েছে। 

১. অবিলম্বে আবাসন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে রিয়েল এস্টেট খাতে বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। 

২. আবাসন ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ঋণের সুদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মওকুফ ও সহজ শর্তে পুনঃতফসিল করা খুবই জরুরি দরকার। 

৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে আবাসন শিল্পে ২০০৭-০৮ সালের ন্যায় হাউজিং রি-ফিন্যান্সিং স্কিম পুনঃপ্রচলন অত্যাবশ্যক। 

৪. রিহ্যাব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই এবং এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক উন্নয়নের নিমিত্তে গৃহীত সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করছি। 

এছাড়া আবাসন ব্যাবসার সাথে বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যাবসায়ীরা জড়িত থাকে ।  অনেক ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী আছে তারা নিজস্ব অর্থায়নে বা হ্যান্ড লোনের দ্বারা আবাসন ব্যাবসা করে।  অনেক সময় ব্যাংক লোন থেকেও তারা দুরে ব্যাংকিং খাতে লোনের জন্য গেলে নানা হয়রানির শিখারও হয়  । 

এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলাপ হয় রিহ্যাব সদস্য সিদরাত সাইফ ডেভেলপার এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তরুন ব্যাবসায়ী এসএম শহিদউল্লাহ রনির সাথে।  

তিনি বলেন,  আমরা যারা আবাসন ব্যাবসা করি আমরা অনেকে নিজেদের অর্থায়নে এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে হ্যান্ড লোনের মাধ্যমে সব করি।  ব্যাংক থেকেও লোন গ্রহণ করতে গেলে পোহাতে হয় নানা দূর্ভোগ।  এক কথায় বড় ব্যাবসায়ীরা লোন পায় আমারা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা পায় না।  কিন্তু সরকার বলছে  বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যাবসায়ীদের লোন দেওয়ার জন্য নিন্ম এবং ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদেরও, ব্যাংকিং খাতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রুপ ব্যাংক দিচ্ছে না লোন।  দিচ্ছে ঠিকই সেই বড় বড় ব্যাবসায়ীদের যারা গরীবের টাকা মেরে খায়।  আমার ব্যাক্তিগত প্রজেক্টের কথা বলি নগরীর প্রাণ কেন্দ্র মুরাদপুরে ২৫ কাটা জমির উপর নির্মান হচ্ছে এসএস নুর কমপ্লেক্স যেখানে বাজেট একশ কোটি টাকা।  কিন্তু এখন চলমান কাজ বিশ কোটি।  দেশে যে মহামারি চলমান অবস্থা এতে করে অর্থনৈতিক সংকটে পোহাতে হচ্ছে আমাদের।  ফ্ল্যাট, দোকান বেচাকেনা নেই বললে চলে।  এই হ্যান্ড লোন সাথে তালমিলিয়ে অর্থনীতি মন্দার কথা মাথায় আসলে  আত্বহত্যার কথা ছাড়া কিছুই মাথায় থাকে না।  পরিশোধ করতে পারছি না হ্যান্ড লোন।  

এর পাশাপাশি যে আমার ব্রিক্সস শিল্প রয়েছে তার মধ্যো ও বহন করতে হচ্ছে লোকশানের খাতা। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্তিতির কারনে ব্রিক্সস ইন্ডাস্ট্রিতে একটিতে এক কোটি টাকা করে লোকশান গুনতে হচ্ছে বর্তমানে আমার ছয়টি ইন্ড্রাস্টিতে ছয় কোটি টাকা লোকশান হয়েছে ।  ব্রিক্স ব্যাবসা খাত দেখাতে গেলেও ব্যাংক থেকে দেওয়া হচ্ছে না লোন।   যে হ্যান্ড লোন নেওয়া হয় তাও পরিশোধ করতে কষ্টকর হয়ে পরেছে।  পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স চাইলেও দেওয়া হচ্ছে না লাইসেন্স।  কিন্তু ঠিকই সরকারকে, পরিবেশ অধিদপ্তরকে দিতে হচ্ছে প্রতিমাসে    ভ্যাট ।  সবকিছু মিলিয়ে বরাবর বহন করতে হচ্ছে লোকসান


keya