৭:৪৮ এএম, ১ জুন ২০২০, সোমবার | | ৯ শাওয়াল ১৪৪১




প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে দুশ্চিন্তায় ব্যাংক খাত

১৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪০ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: সরকার ঘোষিত ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যার মুখোমুখি হবে দেশের ব্যাংকিং খাত। 

চলমান তারল্য সংকটের কারণে এ সমস্যা দেখা দেবে। 

প্রণোদনা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে মোট ৫০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করতে হবে। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে অফিস আদালত দোকানপাটসহ গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।  এ অবস্থায় দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন চারটিসহ মোট ৫টি প্যাকেজে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকগুলো নিজেদের সম্পদ থেকে শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবে।  ৯ শতাংশ সুদে বিতরণকৃত অর্থের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেবে উপকারভোগী, বাকি অংশ দেবে সরকার। 

ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আরেকটি ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।  এই ঋণের সুদহারও ৯ শতাংশ।  তবে ৪ শতাংশ দেবে উদ্যোক্তারা বাকি ৫ শতাংশ দেবে সরকার। 

অর্থাৎ প্রণোদনা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে মোট ৫০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করতে হবে। 

এ বিষয়ে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলমান সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগটি চমৎকার।  তবে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে সমাধানের সংক্ষিপ্ত শেষ প্রান্ত। 

ব্যাংকগুলো এই মুহূর্তে মুনাফা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।  ঠিক তখনই সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।  এতে খেলাপিদের কাছে নতুন করে অর্থ চলে যাবে।  ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত চাপে পড়বে। ’

ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা উচিত। ’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রণোদনার অর্থ উপকারভোগীদের দিতে হলে ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমা হার (এসএলআর) ও নগদ জমার হার (সিআরআর) এবং নীতি সহায়তা দিতে হবে। ’

একটি ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিধিবদ্ধ জমা হার (এসএলআর) ও নগদ জমা সংরক্ষণ হার (সিআরআর) কমানোর আগে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ভাবা উচিত।  এসএলআর ও সিআরআর আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার দেওয়ার জন্য রাখা হয়। ’

সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংককে নতুন উপায় বের করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

চলতি বছরের ২৩ মার্চ ব্যাংকগুলোর জন্য তহবিল সহজলভ্য করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে তহবিল ধার নেওয়ার (পুনরায় ক্রয় করার হার) সুদ ২৫ পয়েন্টের ভিত্তিতে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। 

নগদ জমা সংরক্ষণ হার (সিআরআর) ৫০ পয়েন্টের ভিত্তিতে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তহবিল পেয়েছে ৬ হাজার ৪শ কোটি টাকা। 

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঋণ ও আমানতের অনুপাত হারও শিথিল করা উচিত। ’

তিনি বলেন, ‘সরকার রপ্তানি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।  ব্যাংকগুলো এই কর্মসূচির শর্তাবলীর নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।  রপ্তানিকারকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে।  খেলাপি ঋণের জন্য নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয় ব্যাংকগুলোর।  এটি আরও বেশি সমস্যা তৈরি করবে। ’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সরকার এই ঋণ আদায়ের ঝুঁকির অংশীদার না হলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখাবে না।  সরকার যদি প্রণোদনা প্যাকেজের বিতরণকৃত ঋণের লোকসানের টাকা দেয় তাহলে তাহলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখাবে। ’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তারল্য সরবরাহের জন্য তাৎক্ষণিক সহজ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে।  না হলে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হবে।  তাৎক্ষণিক সহজ প্রাপ্তির জন্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি বিল অথবা বন্ড কিনতে পারে।  বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে ১ লাখ ৫শ’ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড অতিরিক্ত রয়েছে। ’

সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে সহায়তা করবে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ’