৭:০৭ এএম, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার | | ২০ জ্বিলকদ ১৪৪১




চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুটোই বেশি

০১ জুন ২০২০, ১০:০১ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ এই বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে।  পাসের হার গত ৫ বছরে দ্বিতীয় হলেও এইবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত ৫ বছরে সর্বোচ্চ। 

রোববার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এইসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।  এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮৮ জন।  পাসের হার ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। 

এই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন শিক্ষার্থী।  ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৩৯৩ জন, ২০১৮ সালে ৮ হাজার ৯৪ জন, ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ২০১৬ সালে ৮ হাজার ৫০২ জন শিক্ষার্থী এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো।  অর্থাৎ এই বার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত ৫ বছরে সর্বোচ্চ। 

২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিলো ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।  অর্থাৎ ২০১৬ সালের পর এইবছর পাসের হার সবচেয়ে বেশি। 

তিন পার্বত্য জেলায় বড় চমক

বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি- এই তিন পার্বত্য জেলার কারণে সব পাবলিক পরীক্ষায় বরাবরাই পিছিয়ে থাকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।  তবে এই বার পাসের হারে এই তিন জেলা বড় চমক দেখিয়েছে।  পাসের হার বেড়েছে প্রতিটি জেলায়। 

এই বছর বান্দরবানে পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।  গত বছর ছিলো ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।  এই বার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। 

রাঙামাটিতে এই বার পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।  গত বছর এই জেলায় পাসের হার ছিলো ৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।  এই বার পাসের হার বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। 

খাগড়াছড়িতে এই বছর পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।  গত বছর এই জেলায় পাসের হার ছিলো ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।  অর্থাৎ এই বছর খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৩ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারেও পাসের হারে উন্নতি

এই বছর চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।  গত বছর পাসের এই হার ছিলো ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।  অন্যদিকে জেলায় এই বার পাসের হার ৮৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।  গত বছর পাসের এই হার ছিলো ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। 

নগর ও জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামে এই বার পাসের হার ৮৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।  গত বার এই হার ছিলো ৮০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।  অর্থাৎ এই বার চট্টগ্রামে পাসের হার গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। 

কক্সবাজারে এই বছর পাসের হার ৮৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।  গত বছর পাসের এই হার ছিলো ৭৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।  অর্থাৎ এই বছর কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়েছে। 

বিজ্ঞানে বেশি পাস, বেশি জিপিএ-৫

প্রতি বছরের মতো এই বছরেও সবচেয়ে বেশি পাস করেছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।  এই বার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩০ হাজার ২৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।  এর মধ্যে পাস করেছে ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।  জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৯ জন। 

এই বার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।  এর মধ্যে পাস করেছে ৮৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।  জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪৯ জন। 

মানবিক বিভাগ থেকে এই বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫২ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।  এর মধ্যে পাস করেছে ৭৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।  জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০ জন। 

এই বার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার শতভাগ- এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০টি।  এই বোর্ডের অধীনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শুন্য শতাংশ নেই।  এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৫৭ জন।  যা মোট পরীক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ

তিন কারণে ভালো ফ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, পাসের হার বাড়াতে তিন পার্বত্য জেলায় আলাদা নজরদারি ছিলো বোর্ডের।  বিদ্যালয় পরিদর্শকদের দিয়ে পার্বত্য এলাকার বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত মনিটরিং করেছি আমরা।  যার ফল এসেছে এই বারের এসএসসিতে। 

তিনি আরো বলেন, এই বার পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষকদের সতর্ক করেছি আমরা।  সময় নিয়ে ত্রুটিহীনভাবে যাতে তারা খাতা মূল্যায়ণ করে।  অন্য কাউকে দিয়ে যাতে খাতা মূল্যায়ণ করা না হয়।  পরীক্ষকদের প্রচেষ্টা এবং বোর্ডের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় পাসের হারে এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ভালো করেছি আমরা। 

‘এইবার চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে মেয়েদের অবদান বেশি রয়েছে।  গত বারের তুলনায় এই বার ১ হাজারের বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।  যার প্রভাব পড়েছে এসএসসির এই বারের ফলাফলে। ' যোগ করেন তিনি।