১২:২২ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




করোনা মহামারিতে অসহায়দের পাশে স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন

০৪ জুন ২০২০, ০৩:০২ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ বর্তমান বিশ্বে ভয়াবহ রূপ ধারণ করা মরনঘাতী করোনা ভাইরাস এর কারণে কর্মহীন ও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন 'স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন'। 

মানবিক কাজের জন্য ইতিপূর্বে ২০১৮ সালে সংগঠনটি দেশ সেরা জয় বাংলা ''ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড'' অর্জন করে। 

করোনায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে 'স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন' ১০টি প্রজেক্ট চালিয়ে যাচ্ছে। 

প্রজেক্টঃ-

প্রজেক্ট-১ঃ(সচেতনতা) এর আওতায় বাংলাদেশের ৩২ টি শাখায়  ১০ হাজার সচেতনতামূলক লিপলেট বিতরন করা হয়। 

প্রজেক্ট-২ঃ(সতর্কতা) এর আওতায় চট্টগ্রাম, ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ, সহ বেশ কয়েকটি শখায় ৫০০ পিচ  ফ্রি মাস্ক বিতরণ, ২০০ ফ্রি গ্লাভস বিতরন,নিজস্ব তৈরী হ্যান্ড সেনিটাইজার, সাবান বিতরণ, পরিবহনে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। 

প্রজেক্ট-৩ঃ(সামাজিক দুরত্ব) সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার জন্য  বিভিন্ন বাজার এবং দোকানের সামনে দূরত্ব নির্দেশক চিহ্ন অংকন করে দেয়া হয়। 

প্রজেক্ট-৪ঃ(নিন্ম মধ্যবিত্ত) ৩২ টি শাখায় শুকনো খাবার সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ।  এখন পর্যন্ত বিতরন ২০০০ পরিবার।  তারা এমন পরিবারের মাঝে বিপদে উপহার স্বরুপ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে যারা কষ্টে আছেন কিন্তু হাত পাততে পারেননা।  এক্ষেত্রে কোন ছবি বা নাম প্রকাশ করা হয়না যাতে ওনাদের আত্নসম্মান নষ্ট হয়। 

(শিশুর দুধ) অনেকে  শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারছেননা তাই শিশুর স্বাস্থ হুমকীতে।  এমন শিশুর জন্য কল করা মাত্র তারা দুধ প্রেরণ করেন।  এ  প্রজেক্টটি শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। 

প্রজেক্ট-৬ঃ
(রমজানের উপহার) রমজানে ১০০০পরিবারে সাহরী ও ইফতার সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন এই সংগঠনের সদস্যরা।  পণ্য প্যাকেট পরিবহন করে নিরবে ঘরে পৌঁছে দেয় সংগঠনের সদস্যরা। 

প্রজেক্ট-৭ঃ(ঈদ উপহার ও ঈদ ফুড প্যাকেজ) স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠের ৮০জন বাচ্চার পরিবারকে ঈদ বস্ত্র এবং ফুড প্যাকেজসহ প্রায় ৫০০ পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। 

প্রজেক্ট-৮ঃ(ফুডব্যাংক) এর আওতায় দেশব্যাপী ফুটপাতে, বস্তিতে, কলোনীতেঅসহায়, অভুক্ত, রিকসাওয়ালা ও দিনমজুরদের মাঝে খাবার বিতরন করা হয়।  এটি চলমান প্রজেক্ট।  করোনায় ফুডব্যাংক টিম প্রায় ৮ হাজার মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে। 
বর্তমানে ১৩৫ ইভেন্টে ১৬ হাজার মানুষের মাঝে খাবার বিতরন করা হয়। 

প্রজেক্ট-৯ঃ(সবজি বাজার) ক্ষেতের সবজি অপচয়, বিনষ্ট এবং চাষীদের ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে সবজি প্রদানের লক্ষে বিনামূল্যে সবজিবাজার পরিচালিত হয়। 

প্রজেক্ট-১০ঃ(মানবিক হিরো ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা) মানবিক হিরো স্বেচ্ছাসেবক ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য ঈদের উপহার প্রদান করা হয়। 

প্রজেক্ট-১১ঃ(প্লাজমা) করোনা যুদ্ধে বিজয়ীরা প্লাজমা প্রদানের মাধ্যমে করোনা রোগীর জীবন বাঁচাতে পারবে।  তাই গঠন করা হয় প্লাজমা সেল। 

দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন মুহূর্তে ও সংগঠনটি অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে।  বর্তমানে করোনায় বিপর্যস্ত অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সরবরাহের জন্য কমিটি করা হচ্ছে। 

সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন,  মানবিক কাজে সবসময় অগ্রগামী এই সংগঠন।  যেখানে মানবতা বিপন্ন সেখানে ছুটে চলেন ব্যতিক্রমী কাজের  অগ্রপথিক এই সংগঠন।  বর্তমানে আমাদের অনুকরন করে অনেকে কাজ করছেন যা ইতিবাচক।  করোনা মোকাবেলায় সকলকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি ।