৬:৪১ এএম, ৪ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার | | ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১




যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে

০২ জুলাই ২০২০, ০৪:৫০ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসটির সংক্রমণ যেন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।  প্রতিদিনই ভাঙছে আক্রান্তের রেকর্ড। 

স্হানীয় সময় বুধবার (০১ জুলাই) একদিনেই রেকর্ড করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে।  নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে কয়েকটি রাজ্যের করোনা পরিস্হিতি। 

দেখা দিয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা।  নতুন করে ব্যাপকহারে করোনার বিস্তার বাড়তে থাকায় কয়েকটি রাজ্যে বিধিনিষেধ শিথিলের পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।  পুন:রায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে বীচ,রেস্ট্রুরেন্ট,বার,নাইট ক্লাব সহ অনেক প্রতিষ্ঠান। 

বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে করোনা বিস্তার রোধে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পরই নতুন করে বেড়েছে করোনার বিস্তার।  গেলো দুই সপ্তাহেই পেরিয়েছে সংক্রমণের পূর্বের রেকর্ড।  যেসব রাজ্যগুলোতে নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অ্যারিজোনা,ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লরিডা,টেক্সাস,অ্যালাবামা, জর্জিয়া, মিসিসিপি, মিজৌরি, নেভাডা, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, আইডাহো, টেনেসি এবং ওয়াইওমিং উল্লেখযোগ্য। 

সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ক্যালিফোর্নিয়া,টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনায় বিধিনিষেধ শিথিল করা থেকে সরে এসেছে স্হানীয় প্রশাসন।   অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাস করোনাভাইরাস সংকটের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। 

রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক রাজ্যে মহামারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।  এর মধ্যে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ রাজ্যে শনাক্ত রোগীর ঊর্ধ্বগতি দেখে উদ্বিগ্ন মার্কিন শীর্ষ স্বাস্হ্য বিশেষজ্ঞরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন দেশটিতে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।  যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে গড়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে মত দিয়েছেন  বিশেষজ্ঞরা। 

জনস হোপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫৩ হাজার।  যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ২৭ লাখ ৮২ হাজার।   মোট মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার। 

গত কয়েকদিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫-৪০ হাজারে ওঠা নামা করলেও গতকাল একদিনেই তা ছাড়িয়ে গেল ৫২ হাজার। 

ক্যালিফোর্নিয়া,টেক্সাস,ফ্লোরিডা,ফোনিক্স,অ্যারিজোনা ও টেক্সাস সহ কয়েকটি রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বুধবার টেক্সাসে আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে প্রায় ৯ হাজার।  আক্রান্তের দিক দিয়ে নিউ ইয়র্কের পরই দ্বিতীয় অবস্হানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া।  এ রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬ হাজার।  আর সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যান্জেলেস শহর। 

জনবহুল লস অ্যান্জেলেস মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬ শত এবং মারা গেছে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।  যা পুরো ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার অর্ধেক।  লস অ্যান্জেলেসে গত কয়েক মাসে কোন প্রবাসী বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা না গেলেও সম্প্রতি মারা গেছেন কয়েকজন।  আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। 

এ নিয়ে নতুন শঙ্কায় রয়েছে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।  স্বাস্হ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখনই করোনার সংক্রমণের গতিরোধে কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ ও জনগণ স্বাস্হ্যবিধি না মানলে আরো ভয়াবহ পরিস্হিতির সম্মুখীন হতে হবে।