৭:৫০ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২




ইবি উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের মানববন্ধন

২৬ জুলাই ২০২০, ১১:১৮ এএম |


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ , ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। 

তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার এন এস রোডে এ দাবিতে নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে যৌথভাবে মানববন্ধন করেছে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মকর্তা সমিতি ও শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। 

মানববন্ধনে তারা উপাচার্যকে দুর্নীতিবাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসকারী, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যের হোতা এবং পগতিশীল রাজনীতি ধ্বংসকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।  একই সাথে তার আস্থাভাজনদেরকে ‘আসকারী গং’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদেরও অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। 

ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।  মানববন্ধনে তারা উপাচার্য ও তার আস্থাভাজন শিক্ষক সাবেক প্রক্ট্রর মাহবুবর রহমানসহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সকলের অপসারণ ও বিচারের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। 

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমানের পরিচালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন, সদস্য অধ্যাপক ড. আলমগীরস হোসাইন ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সাজ্জাদ হোসেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম জোহা, সদস্য উকিল উদ্দিন প্রমুখ।  এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির মাহফুজ মাসুদ, সাবেক সহ-সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, সাবেক ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালনসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মকর্তা সমিতি ও ছাত্রলীগের প্রায় তিনশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যের হোতা দুর্নীতিবাজ উপাচার্য আসকারী দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রগতিশীল এবং ছাত্রলীগের রাজনীতি ধ্বংস করে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন।  তিনি একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি পরিচালনা করছেন।  কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং হুমকি দেয়।  বিশ্ববিদ্যালয় আজ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হতে চলেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণ করে এবং তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি সিন্ডিকেটের সব সদস্যের অপকর্ম তদন্তপূর্বক বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা। 

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই কিছুই করেননি।  উল্টো তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল রাজনীতিকে ধ্বংস করেছেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মেগা প্রকল্প রয়েছে তার দায়িত্ব তিনি দিয়ে রেখেছেন সাবেক প্রক্ট্রর মাহবুবসহ তার আস্থাভাজন কিছু মানুষকে।  যাদের দুর্নীতির কথা সবারই জানা।  তাই আমরা দুর্নীতিবাজদের লালনপালনকারী এই উপাচার্যের অপসারণ দাবি করছি। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মানববন্ধন থেকে দাবি জানিয়েছি অনতিবিলম্বে উপাচার্যের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যের আইনানুগ বিচার করত হবে।  সেইসাথে উপাচার্যকে অপসারণ করে তদন্তপূর্বক করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

মানববন্ধনের বিষয়ে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরেফীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এ যাবতকালে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে তার কোনোটারই সঠিক ব্যবস্থা  নেওয়া হয়নি।  আমরা দলীয় ফোরাম থেকে বারবার দাবি জানালেও প্রশাসন কর্ণপাত করেনি।  এজন্যই আজকের মানববন্ধন।  অনিয়ম দুর্নীতির এসব অভিযোগ সুরাহা করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানিয়েছি।  যেন তদন্তপূর্বক সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। '