৪:১২ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার | | ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২




লাইফ সাপোর্টে চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫৭ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর হৃদযন্ত্রের ৮০ শতাংশ কাজ করছে না।  তাই শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।  তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। 

এর আগে সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে এদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  হাসপাতালটির আইসিইউতে বর্তমানে তিনি ভর্তি আছেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক-চিত্রনায়ক জায়েদ খান।  শনিবার মধ্যরাতে ফেসবুকে তিনি লেখেন, এখনও হাসপাতালে বসে আছি।  লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে বাচ্চু ভাইকে।  সবার কাছে খুব করে দোয়া চাই।  আল্লাহর রহমতই এখন একমাত্র ভরসা। 

এদিকে সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অভিনেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক।  তার হৃদযন্ত্র ৮০ শতাংশ কাজ করছে না বলেই তাকে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়েছে। 

গত ৬ সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাদেক বাচ্চু।  উপসর্গ থাকায় তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। 

পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চে, বেতারে, টিভিতে, সিনেমায়, সর্বত্র দাপুটে বিচরণ সাদেক বাচ্চু’র।  নব্বই দশকে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা পান খলনায়ক হিসেবে।  এই পরিচয়েই দেশজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে গুণী এই অভিনেতার। 

১৯৬৩ সালে খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু।  তাঁর প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ।  ’ ১৯৭২-৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যখন এদেশের সাংস্কৃতিক বলয় নতুনভাবে তৈরি হচ্ছিল, তখন যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারে।  দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন গুণী এই অভিনেতা।  ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। 

সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।