৭:১৪ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২




বিদ্যুতের বাড়তি বিলে দিশেহারা সাধারন মানুষ

তোপের মুখে হাটহাজারী বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫৭ এএম | নকিব


নকিব ছিদ্দিকী, চট্টগ্রাম: বিদ্যুতের অযৌক্তিক বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গ্রাহকরা।  তাদের অভিযোগ, মিটার রিডাররা মিটার দেখে বিল করেন না।  করোনা প্রাদুর্ভাবে আয় রোজগারহীন মানুষরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কাছে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছেন। 

আমান বাজারের গ্রাহক এস.এম শহিদ উল্লাহ রনি জানান, আমার মিটারে রিডিং ছিল গত ২১সেপ্টেম্বর ১২০০০ হাজার কিন্তু তারা না দেখে রিডিং তুলে রেখেছে এর এক সাপ্তাহ আগে ১৪০০০ হাজার যেখানে ২০০০ বেশি।  সে রুপে আরো এক মিটারেও একই ভাবে ২০০০ রিডিং বেশি তুলেছে। 

বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ আছে গ্রাহকদের।  অনেকে বিদ্যুৎ অফিসে এই ভৌতিক বিলের অভিযোগ দিলেও কেউ কেউ সময় এবং অতিরিক্ত টাকা খরচের আশঙ্কায় অভিযোগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। 

উপজেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিলের এমন অভিযোগ রয়েছে।  করোনার কারণে অধিকাংশ মানুষের রোজগার বন্ধ।  এখন এ আকাশকুসুম বিল দেখে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। 

এ সময় মিটার না দেখে বিদ্যুৎ বিল করার কথা স্বীকারও করছেন খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের।  সোমবার সরেজমিনে হাটহাজারী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা মিলে এমনই প্রায় ৫০ জনের মতো ভুক্তভোগী।  

দেওয়ান নগরের কাদিরুল ইসলাম এসেছেন বিল সংশোধন করতে।  তিনি বলেন, প্রতিমাসে আমাকে ২০০-৫০০ ইউনিট বিল করা হচ্ছে।  মিটারে তো এত বেশি আসার কথা না।  এটি সংশোধন করতে বিদ্যুৎ অফিসে আসলে আমাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। 

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ দিতে আসা বেশকিছু গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ অফিস আন্দাজে বিল করার কারণে এই অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে গিয়ে অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন।  অফিসে এসেও কোনো প্রতিকার পচ্ছেন না তারা। 

জানা গেছে, হাটহাজারীর প্রায় ইউনিয়নেই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চলছে নয়ছয়।  বেশি বিলের মাধ্যমে গ্রাহক থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। 

হাটহাজারীর পৌরসভা, ফটিকা, মদনহাট, ইসলামিয়া হাট, চড়াকুল, ফতেয়াবাদ, চৌধুরীহাট, আমান বাজার, লালিয়ারহাট, বড়দীঘির পাড়, শিকারপুর, নতুনপাড়া, খন্দকিয়া এলাকায় ভুতুরে বিলের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। 

এই বিষয়ে হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের বলেন, মিটার রিডারেরা মিটার না দেখে রিডিং করার কারণে এই হয়রানি।   আমরা কোন অপরাধ না করেও মিটার রিডারদের কারণে আমাদের কথা শুনতে হচ্ছে।  আমি অভিযোগগুলো দেখে দ্রুত সমাধান করবো।