৭:০৯ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার | | ১৯ সফর ১৪৪৩




গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারীর গহিন অরণ্যে সাধনাস্থল ফকির গুহা ও বটপুকুরিয়া আস্তানা

০২ জুন ২০২১, ০৯:৫৯ এএম |


প্রদীপ শীল, রাউজানঃ মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাতিক সাধক পুরুষ হজরত গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডরী প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী ছিলেন একজন জগৎসৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম অলি। 

তিনি আলৌকিত কঠিন সাধনায় মানব শূর্ণ্য গহিন পর্বতে অবস্থান করেছেন। 

যেখানে তিনি সাধনায় মগ্ন ছিলেন প্রতিটি পর্বতশিখা আলোকিত ও দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিনত হয়েছে। 

পবিত্রতায় ও বিশুদ্ধতায় এসব সাধনার আস্তানা গুলোতে লাখো ভক্তদের পদচারণায় জাগ্রত হয় বাবা ভাণ্ডারী লুকায়িত আত্মা। 

জানা যায়, পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের গহিন অরন্যে একটি পাহাড়ের গুহায় রেয়াজত করেন বাবা ভাণ্ডারী। 

শতবর্ষ পূর্বে যে স্থানে হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী কঠিন রেয়াজত করেন সে স্থানটির নাম ফকির গুহা।  ফকির গুহায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষের আগমন ঘটে এখানে।  মাউজভাণ্ডার দরবার শরীফের অনুসারীরা এ আস্তান জেয়ারত করে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকেন।  উন্নয়নের এই যুগেও বাবা ভাণ্ডারীর আস্তানা ফকির গুহায় যেতে হলে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করে যেতে হয়।  রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর হয়ে কাউখালী পোড়া বাজার পযর্ন্ত গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায়।  এরপর হরিদ খালী খাল দিয়ে উজানের পানিতে পায়ে হেঁটে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে বাবা ভান্ডারীর আস্তানায় পৌছানো সম্ভব।  শত দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন জেয়ারত করতে আসে এ ফকির গুহাতে।  ছাগল,মুরগী জবাই করে ফাতেহা দেয় আগত আশেক ভক্তরা।  বাবা ভাণ্ডারীর আরো একটি আস্তানা শরীফ রয়েছেন রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী জনপথ বটপুকুরিয়া এলাকায়।  হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারীর আশেক ভক্তরা এই আস্তানা শরীফ জেয়ারত করতে আসেন।  প্রতিদিন শতশত মানুষ তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে আর্জি দিয়ে থাকে। 

কথিত রয়েছে প্রায় ১শত বৎসর পুূর্ব হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী ফকির গুহার পাহাড়ে কঠিন রেয়াজত করেন।  পরে ফকির গুহা থেকে বটপুকুরিয়ায় রেয়াজত শুরু করেন।  সেখান থেকে মাইজভান্ডারী ত্বরিকার প্রবর্তক হজরত গাউসুল আজম সৈয়দ আহম্মদ উল্ল্যাহ মাইজভান্ডারীর নির্দেশে ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডার দরবার শরীফে নিয়ে যাওয়া হয় বাবা ভাণ্ডারীকে।  তৎসময়ে দরবার শরীফের লোকজন পালকিতে করে হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারীকে মাইজভান্ডার দারবার শরীফে নিয়ে যাওয়া হয়।  জানা গেছে, বটপুকুরিয়ায় হজরত গোলামুর রহমান ভাণ্ডারীর অবস্থান কালীন খাদেম হিসাবে ছিলেন রাউজানের এয়াসিন নগর গ্রামের বাসিন্ধা হজরত নজীর আহম্মদ শাহ মাইজভান্ডারী।  তিনিও বাবা ভাণ্ডারী প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে বটপুকুরিয়ায় রেয়াজতে মগ্ন হয়ে পড়ে।  ঘরবাড়ী ছেড়ে গহিন অরন্যে রেয়াজত থাকা অবস্থা থেকে হজরত নজীর আহম্মদ শাহ মাইজভান্ডারী আর ঘরে ফিরে আসেনি।  তিনি সেখানে রেয়াজত থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।  ইন্তেকালের পর হজরত নজীর আহম্মদ শাহ মাইজভান্ডারীকে হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারীর আস্তানায় দাফন করা হয়। 

হলদিয়া দুর্গম পাহাড়ী এলাকা বটপুকুরিয়া বাবা ভান্ডারীর আস্তানায় গিয়ে দেখা যায়, হজরত নজীর আহম্মদ শাহ মাইজভান্ডরীর দৌহিত্র সৈয়দ মোঃ কুতুব উদ্দিন খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি জানা, প্রতিদিন শত শত আশেক ভক্ত আসেন আস্তানা শরীফে।  তাদের তবরুক খাওয়ানো ও আস্তানা শরীফের খেদমত করেন তিনি।  তিনি বলেন, আমার উপর অর্পিত গোলামের দায়িত্ব আমি পালন করে যাচ্ছি।