৯:১০ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার | | ২৯ সফর ১৪৪৪




অনায়াস সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

১০ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৯ পিএম |


অনায়াস সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

এসএনএন২৪ ক্রীড়া ডেস্ক:

তিন  ম্যাচের সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে।  শেষ ওয়ানডেটি বাংলাদেশের জন্য ছিল কেবলই মান রক্ষার, হোয়াইটওয়াশ লজ্জা এড়ানোর।  এমন এক ম্যাচে এসে অবশেষে জ্বলে উঠলো টাইগার বাহিনী।  জিম্বাবুয়েকে ১০৫ রানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় তুলে নিলো তামিম ইকবালের দল। 

আজ (বুধবার) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১০৫ রানে হারিয়েছে তামিমরা।  আফিফ হোসেনের অপরাজিত ৮৫ ও এনামুল হকের ৭৬ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৬ রান করে বাংলাদেশ।  সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩২.২ ওভারে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।  সফরকারীরা জয় পেলেও সিরিজ খুইয়েছে আগেই।  স্বাগতিকরা তিন ম্যাচের সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। 

জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে বেশ বিলম্ব হয়েছে বাংলাদেশের।  ৮৩ রানে ৯ উইকেট তুলে নিলেও শেষ উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নিয়াউচি ৬৮ রানের জুটি গড়ায় দেরি হচ্ছিল জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে।  মোস্তাফিজুর রহমান চতুর্থ উইকেট হিসেবে নিয়াউচিকে বোল্ড করলে এবারের সফরে ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ।  নিয়াউচি করেছেন ৩১ বলে ২৬ রান।  এনগারাভাকে তো আউটই করতে পারেনি।  তিনি ২৭ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। 

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সহজ জয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল মোস্তাফিজ।  তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছে ব্যাটিং ইনিংস থেকে।  প্রয়োজনের সময় হার না মানা ৮৫ রানের ইনিংসে ম্যাচের সেরা আফিফ হোসেন।  আর ব্যাটে বসন্ত চলা সিকান্দার রাজা জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। 

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় লজ্জার সাগরে ডুবেছে তামিমরা।  সামনে ছিল আরও বড় লজ্জার মুখে পড়ার আশঙ্কা।  সেটি হলো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।  এত বড় অঘটনের সামনে যেন পড়তে না হয় সেই লক্ষ্য নিয়েই তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ।  কিন্তু স্কোরবোর্ডে সেরকম রান ওঠেনি।  তাই বোলিংয়ে দুর্দান্ত শুরুর প্রয়োজন ছিল।  যেটি এনে দেন বোলাররা। 

শুরুটা করেছিলেন হাসান মাহমুদ।  ডানহাতি পেসার শুরুতেই ফেরান ওপেনার তাকুজোয়ানাশে কাইতানোকে।  এই ওপেনার রানের খাতাই খুলতে পারেননি।  জিম্বাবুয়ে ওই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাত।  ডানহাতি স্পিনারের শিকার আরেক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি (১)। 

তাদের এনে দেওয়া দুর্দান্ত শুরু কাজে লাগিয়ে জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করে তোলেন এবাদত।  এই সিরিজে তার খেলার কথাই ছিল না।  বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্পে কাজ করছিলেন খুলনায়।  সেখান থেকেই জানতে পারেন জিম্বাবুয়ে যেতে হবে।  এবাদত হোসেন উড়ে গেলেন আফ্রিকার দেশটিতে।  তবে দ্বিতীয় ওয়ানডে আর খেলা হলো না।  তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে আগুন ঝরাচ্ছেন রীতিমতো।  তার তোপে এলোমেলো জিম্বাবুয়ে। 

হঠাৎ পাওয়া সুযোগটা তিনি শুরুতেই কাজে লাগান।  পরপর ২ বলে উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন।  গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি।  শুরুটা ওয়েসলি মাধেভেরেকে দিয়ে।  ১ রান করা এই ব্যাটারকে ক্যাচ বানান মিরাজের হাতে।  এবাদতের ওই উৎসব থামতে না থামতেই আরেকটি চমক।  এবার আরও উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার পালা।  কারণও আছে, আউট করেছেন যে এবারের সফরের সবচেয়ে কঠিন ব্যাটারকে।  আগের দুই ওয়ানডের ভাগ্য যিনি লিখে নিয়েছিলেন, সেই সিকান্দার রাজাকে প্রথম বলেই আউট করলেন এবাদত!

টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজে যেন আরও আলো ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজা।  ওয়ানডের দুই ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি।  শুধু কি তাই, দুই ইনিংসে তাকে আউটই করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা! অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা সেই রাজাকে কিনা প্রথম বলেই বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ দেখালেন এবাদত। 

এই পেসারের তোপের পর জোড়া আঘাত হানেন তাইজুল।  তাতে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ।  স্পিন ভেল্কিতে দিশেহার আফ্রিকার দেশটি।  স্বাগতিকদের আশা জাগানো ইনোসেন্ট কাইয়াকে দিয়ে বাঁহাতি স্পিনারের খোলেন উইকেটের খাতা।  এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে তিনে নামা ব্যাটারকে ফেরান ১০ রানে।  খানিক পর আবারও তাইজুলের আঘাত।  দ্বিতীয় শিকার লোয়ার মিডল অর্ডারের টনি মুনিয়োঙ্গা।  উইকেট ছেড়ে খেলতে এসে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের স্টাম্পিংয়ের শিকার তিনি।  ফেরার আগে করে যান ১৩ রান।  তাতে জিম্বাবুয়ে ৪৯ রানে হারায় ৬ উইকেট। 

এবাদত ও তাইজুল জোড়া আঘাত হানলেন।  উইকেটের খাতা ‍খুলেছেন হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজও।  মোস্তাফিজুর রহমান বাদ থাকবেন কেন! তিনি বরং সতীর্থ সবাইকে ছাড়িয়ে যান।  এবাদত-তাইজুলদের সাফল্যে মোস্তাফিজ বোলিংয়ে আসেন দেরিতে।  তবে উইকেট পেতে বেশি সময় লাগেনি।  নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্যের ভেলায় ভাসেন লুক জঙ্গোয়ে আউট করে।  বাঁহাতি পেসারের বলে এনামুল হকের হাতে ধরা পড়েন তিনি ১৫ রান করে।  ২৫ বলের ইনিংসে আছে দুটি বাউন্ডারি। 

মোস্তাফিজের উইকেট আনন্দ সবে শুরু।  কারণ নিজের পরের ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি।  তৃতীয় বলে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ক্লিভে মাদান্দেকে।  এই উইকেটকিপার ব্যাটার একপ্রান্ত আগলে রেখে চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি।  ৪৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৪ রান করে ফিরে যান তিনি। 

২ বল বিরতি দিয়ে আবারও মোস্তাফিজের উইকেট।  এবার তার শিকার ব্র্যাড এভান্স।  মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাকে আউট করেন ২ রানে।  শেষটাও মুড়ে দিয়েছেন কাটার মাস্টার।  সব মিলিয়ে ৫.২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে তার শিকার ৪ উইকেট।  আর ২টি করে উইকেট পেয়েছেন এবাদত ও তাইজুল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৫৬/৯ (আফিফ ৮৫*, এনামুল ৭৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৯, তামিম ১৯, মিরাজ ১৪; জঙ্গোয়ে ২/৩৮, এভান্স ২/৫৩)। 

জিম্বাবুয়ে: ৩২.২ ওভারে ১৫১ (এনগারাভা ৩৪*, নিয়াউচি ২৬, মাদান্দে ২৪, জঙ্গোয়ে ১৫, মুনিয়োঙ্গা ১৩; মোস্তাফিজ ৪/১৭, তাইজুল ২/৩৪, এবাদত ২/৩৮)। 

ফল: বাংলাদেশ ১০৫ রানে জয়ী। 

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে জয়ী। 

ম্যাচসেরা: আফিফ হোসেন। 

সিরিজসেরা: সিকান্দার রাজা। 


keya