১:৫১ এএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার | | ১০ রজব ১৪৪৪




গুজবে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখলে চোরেরা সুযোগ নিবে : প্রধানমন্ত্রী

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৮ পিএম |


এসএনএন২৪ ডেস্ক:

ব্যাংকে টাকা না থাকার গুজবে চোরেরা সুযোগ নেবে—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ব্যাংকে টাকা নাই’, এমন গুজবে কান দিয়ে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখছেন।  এতে তো চোর সুযোগ পাবে।  চোর ওই ঘরেই যাবে। 


শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 


রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দিন আগে শুনলাম, আমাদের দেশের সবাই রিজার্ভ নিয়ে পারদর্শী হয়ে গেছেন।  গ্রামে গ্রামে, পাড়া মহল্লায়ও এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।  তিন মেয়াদে আমরা ক্ষমতায়, অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি—এই ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।  বাংলাদেশ কোনও দিন ঋণখেলাপি হয়নি। ’


শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকার রিজার্ভ যেখানে রেখে গেছে, তার চেয়ে বাড়িয়েছি।  কিন্তু করোনায় পানির মতো টাকা খরচ করেছি।  সেটা নানা কাজে খরচ করেছি, মানুষের প্রয়োজনে।  এখন খাদ্য কিনতে হচ্ছে।  মানুষের যেগুলো ভোগ্যপণ্য, সেগুলো নিয়ে যাতে সমস্যা পড়তে না হয়।  যার জন্য রিজার্ভ কমেছে।  শুধু আমাদের নয়, অনেক দেশের রিজার্ভও কমেছে। ’


তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ কেন রাখা হয়? দুর্যোগ দুর্বিপাকে যেন খাদ্য কেনা যায়।  আমাদের এখন যে রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে তিন মাস নয়, পাঁচ মাস আমদানি করা যাবে।  খাদ্য কেনা যাবে।  খাদ্যপণ্য যাতে আমদানি করতে না হয়, সেজন্য সবাইকে উৎপাদনমুখী হতে বলবো।  চিকিৎসকদেরও আহ্বান জানাই—জমিজমা তো কিছু আছে।  চাষ করেন।  কিছু উৎপাদন করেন।  যাতে আমরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যদেরও দিতে পারি। ’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিভিন্ন পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে।  পরিবহন খরচও বেড়েছে।  যার কারণে অতিরিক্ত বা অসহনীয় পর্যায়ে দাম উঠে গেছে।  এজন্য আমি কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য অনুরোধ করেছি।  সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়া একান্ত দরকার। ’


দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা একটু অর্থশালী, হাঁচি-কাশি দিলেই দৌড়ায় বিদেশে।  করোনায় তো যেতে পারে নাই।  তখন বাধ্য হয়েছে আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে।  করোনায় হাসপাতালে গিয়ে আমাদের বড়লোক রোগী, যারা বাধ্য হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে গেছেন, যাবার পরে অনেকের চক্ষু চড়কগাছ।  তারা বলছেন—আমাদের দেশের এত সুন্দর হাসপাতাল আছে! এত ভালো সেবা দেয়? এজন্য আমাদের ডাক্তার-নার্সদের ধন্যবাদ জানাই।  তারা করোনায় নিরলস সেবা দিয়েছেন।  তারপরও যাদের টাকা আছে, তারা তো বিদেশ যাবেই। ’


এসময় করোনার টিকা সবাইকে নিতে ফের উদ্বুদ্ধ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক উন্নত ও ধনী দেশ ভ্যাকসিন বিনা মূল্যে দেয়নি।  আমরা দিয়েছি।  বুস্টার ডোজসহ (করোনা টিকা) সবাই নিয়ে নেবেন।  কারা কারা নিয়েছেন হাত তোলেন।  যারা নেননি, নিয়ে নেবেন।  নেবেন না কেন, বিনা মূল্যেই তো দিচ্ছি।  যারা না নেবেন, তাদের ফাইন করবো। ’


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সাফল্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, ‘শুনতে পাই, আমরা নাকি কিছুই করি নাই।  মানুষও সব ভুলে যায়।  এজন্য যখন যে সেক্টরে যাই, সে সেক্টরে যা করেছি, মানুষের কাছে তুলে ধরি। ’


সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা যেভাবে চেয়েছেন, চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চেয়েছেন, আমরা সেভাবে সব ব্যবস্থা নিয়েছি।  ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি যেভাবে অত্যাচার করেছে, সেটা ১৯৭১ সালের হানাদার বাহিনীর অত্যাচারকেও হার মানায়।  এখনও অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হন।  সেসব নারীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য আমরা সুব্যবস্থা করেছি।  আইনি সহায়তারও ব্যবস্থা নিয়েছি। 


keya