৫:৫৯ এএম, ১৯ জুন ২০২৪, বুধবার | | ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫




জিয়াউর রহমান হাজার নিরপরাধ মানুষকে খুন করেছে- ড. অনুপম সেন

০৩ জানুয়ারী ২০২৪, ০৯:৪৫ এএম |


নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত হাজার নিরপরাধ মানুষকে গুলি করে ও ফাঁসি দিয়ে খুন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন।  গতকাল মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিক হত্যা ও হত্যার রাজনীতি এবং ১৯৭৫ থেকে বর্তমান শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।  ড. অনুপম সেন বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাস কয়েক হাজারের বছরের।  ১৯৭১ সালের সশস্ত্র জনযুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে আমি আর পড়িনি।  আলবেরিয়া ও ভিয়েতনামে জনযুদ্ধও বিশাল।  আলবেরিয়ায় ১৫ লাখ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল আর ভিয়েতনামের সাত লাখ।  কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৩০ লাখের বেশি মানুষ।  এরকম ইতিহাস আর কোনো দেশে নেই।  তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে এসব হত্যাকান্ড করেছে তারাই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুসহ তার স্বপরিবারকে হত্যা করেছে।  ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত হাজার নিরপরাধ মানুষকে গুলি করে ও ফাঁসি দিয়ে খুন করেছে।  বঙ্গবন্ধু যখন নতুনভাবে এ দেশটিকে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছিল তখন তারা সা¤্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ নৃশংশ হত্যাকান্ড ঘটায়।  তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন হৃদয়হীন ব্যক্তি।  তিনি কখনও যুদ্ধ করেননি।  আমি নিজে তার সাক্ষী।  যখন সবাই মুক্তিযুদ্ধ করছিল তখন তিনি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে গিয়েছিলেন।  জিয়াউর রহমানে নির্দেশে নিহত শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদার বীর বিক্রমের মেয়ে সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান সেমিনারে বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষ মেরেছিল ওটা ছিল একটি পদ্ধতি।  ওটা ছিল গুলি, ফাঁসি ও বেয়নেট মেরে মানুষ হত্যা করা।  মানুষের রক্তে রঞ্জিত তার হাত।  খালেদা জিয়ার হাতও মানুষের রক্তে রঞ্জিত।  তাদের ছেলেও একইরকম।  জিয়াউর রহমান সে রক্তে রঞ্জিত হাত দিয়ে গেছে তার স্ত্রী, ছেলে ও দলকে।  খালেদা জিয়া মানুষ মেরেছে গুম করে।  তিনি আরও বলেন, ইতিহাস খুবই নির্মম।  কাউকে ক্ষমা করে না।  ইতিহাসের সে নির্মম খুনি জিয়াউর রহমান বারো আউলিয়ার দেশ বলে খ্যাত এ চট্টগ্রামের মাটিতেও ঠাঁই পাইনি।  তার ছেলে তারেক জিয়া দেশ থেকে টাকা চুরি করে লন্ডনে বসে আমোদ ফূর্তি করছে।  দেশে লবিস্ট নিয়োগ করছে।  হত্যাকান্ড চালাচ্ছে।  তাদের দলের নেতারা কেউ তাদের সঙ্গে নেই। ' নাহিদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকা থেকে বাবার কাছে কল আসে যাতে তিনি যত দ্রুত সম্ভব চলে আসেন।  তখনও তিনি জানতেন না আগের দিন রাতে জাতীয় চার নেতাকে খুন করা হয়েছে।  সেদিন যদি বাবাকে যেতে না দিতাম আজ আমি শিশু বয়সে বাবা হারা হতাম না।  ৭ নভেম্বর সকালে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট অফিসে (এখনকার জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেল) আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার সঙ্গে অপর দুই সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।  মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মো. ইউনুছের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কলা ও মানব বিদ্যা বিভাগের সাবেক ডিন সেকান্দর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য বেণু কুমার দে, রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সেলিনা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন ও চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক। 


keya