১২:৩১ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শনিবার | | ১৪ শা'বান ১৪৪৫




নাট্যকলা বিভাগের নাট্যোৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০৭ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চবি উন্মুক্ত মে  তিনদিন ব্যাপি (১৮-২০ ফেব্রুয়ারি) ৩য় বার্ষিক নাট্যোৎসব ২০১৯ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে আনন্দঘন পরিবেশে শুরু হয়েছে। 

১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ নাট্যোৎসব উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।  এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।  অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও শক্তিমান অভিনেতা জনাব মামুনুর রশীদ। 

উপাচার্য তাঁর ভাষণে মহাকালের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী ত্রিশলক্ষ শহীদ, ‘৭৫ এ নির্মমভাবে শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবর্গের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত দু’লক্ষ জায়া-জননী-কন্যার প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন।  উপাচার্য মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।  তিনি বলেন, সৃজন ও মননশীল বিনোদনের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে নাটক।  মানুষের কর্মচাঞ্চল্যের একঘেয়েমী কাটিয়ে ওঠতে এবং অন্তরকে বিকশিত করে সুন্দরকে ধারণ করতে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা।  আর এই সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হল নাটক। 

উপাচার্য আরও বলেন, নাটক শুধু বিনোদন নয়; একটি ভালো নাটক নির্মল আনন্দ দানের পাশাপাশি নাট্য শিল্পীবৃন্দ তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তা পরিহারের পথ আবিস্কার করে।  তাই নাটককে জীবনের প্রতিচ্ছবি বলা যায়।  প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে এবং তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সংস্কৃতি কর্মীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং পথ নাটকের মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একীভূত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। 

ভবিষ্যতেও সংস্কৃতি কর্মীরা দেশ-জাতির যে কোন ক্রান্তিলগ্নে জাতির পাশে থেকে দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন এটাই প্রত্যাশিত।  উপাচার্য তিনদিন ব্যাপি নাট্যোৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।  পূর্বাহ্নে উপাচার্য অতিথিদের সাথে নিয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এবং উন্মুক্ত মে র পাশে একটি গাছের চারা রোপন করেন। 

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। 

চবি নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি ও উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক জনাব শামীম হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ও নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. কুন্তল বড়ুয়া, চবি প্রক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জনাব আলম খোরশেদ, জনাব এজাজ ই্উসুফী, জনাব আহমেদ ইকবাল হায়দার এবং জনাব শিশির দত্ত। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।  নাট্যোৎসবের কালার পার্টনার হিসেবে সহায়তা করছেন বার্জার কালার পেইন্টস।  এ নাট্যোৎসবে নাটক ছাড়াও পরিবেশিত হবে একক অভিনয়, যাত্রাপালা, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, সংগীতানুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান।  পূর্বাহ্নে সকলের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।  তিনদিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত এ নাট্যোৎসবের প্রথমদিনে জনাব হারুন রশীদ রচনায় ‘পঞ্চনারী আখ্যান’, জনাব শাহরিয়ার হান্নান রচিত ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’, জনাব আহমদ কবীর রচিত ‘ধানমন্ডি ৩২ এবং...’ এবং জনাব মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকসমূহ প্রদর্শিত হয়। 


keya