৪:৫০ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার |
| ৯ রমজান ১৪৪৭

রেহেনা আকতার ঃ পবিত্র ঈদুল আযহা—মুসলমানদের একটি ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের অনন্য নিদর্শন। প্রতি বছরই আমরা উদযাপন করি এই ঈদ, যাকে ঘিরে চলে গরু, মহিষ, ছাগল কুরবানির নানা আয়োজন। ব্যস্ত হয়ে পড়ি কে বড় গরু আনলো, কার গরু বেশি দামি, কার গরু বেশি চকচকে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই ঈদ কি শুধুই বাহ্যিক আয়োজন আর প্রতিযোগিতার নাম?
কুরবানির অর্থ ত্যাগ।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি উৎসর্গ করার নামই কুরবানি। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা কুরবানির প্রকৃত রূপ দেখতে পাই—যেখানে ব্যক্তি-ইচ্ছার চেয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশই সর্বোচ্চ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজ কুরবানি অনেকের কাছে যেন এক আত্মপ্রদর্শনের উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবছর দেখা যায়, সমাজের ধনী ও উচ্চবিত্ত মানুষরা বিশাল দামে গরু বা মহিষ ক্রয় করে কুরবানি দেন। এটি নিশ্চয়ই খারাপ নয়, যদি এর সঙ্গে থাকে দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতি, আত্মীয় ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেকেই নিজেদের ফ্রিজ মাংসে পূর্ণ করার পরও খোঁজ রাখেন না পাড়ার অসহায় দিনমজুর, রিকশাওয়ালা কিংবা কাজের মানুষটিরও।
এই কি তবে ত্যাগ? এই কি কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা? কুরবানির মাংস তিনভাগে ভাগ করার যে নিয়ম ইসলাম শিক্ষা দেয়—একভাগ আত্মীয়-স্বজন, একভাগ গরিব-দুঃখী, আর একভাগ নিজের পরিবারের জন্য—আমরা কি তা মানি? আজও আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ ঈদের দিনটা উপোস কাটান শুধু এই জন্য যে, কেউ তাঁদের কথা মনে রাখেনি।
আমরা যদি একটু মানবিক হই, একটু হৃদয় খুলি, তবে এই উৎসবটা শুধু ধনীদের না, সকলের ঈদ হয়ে উঠতে পারে। যদি আমরা নিজেদের ভাগ থেকে কিছুটা দিয়ে গরিব প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তবেই তো ঈদের আনন্দ হবে পরিপূর্ণ। বাস্তবায়িত হবে ঈদের ‘ত্যাগের শিক্ষা’।
আসুন, এবার ঈদুল আযহায় নিজের ভেতরের পশুটাকেও কুরবানি দেই—
লোভ, অহংকার, আত্মকেন্দ্রিকতা—এইসব ভেতরের পশুত্বই তো সবচেয়ে বড় বাধা মানবিকতার পথে। আল্লাহর সন্তুষ্টি তখনই অর্জিত হবে, যখন আমরা কেবল জবাই নয়, দয়া, সহানুভূতি, এবং ত্যাগের মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত মহিমাকে জীবনে ধারণ করব।
ঈদ হোক সবার।
ঈদ হোক মানবিকতায় উজ্জ্বল, সহানুভূতির ছায়ায় আনন্দময়।
লেখক ঃ নারী সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী