৮:০১ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার |
| ৯ রমজান ১৪৪৭

মিলন বৈদ্য শুভ:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার ভিত। মানুষ যখন প্রথম চাকা তৈরি করে, তখনই সে ভবিষ্যতের গতিময় জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এরপর একে একে বিদ্যুৎ, রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার এবং সর্বশেষ মোবাইল ও ইন্টারনেট—সবকিছুই এসেছে বিজ্ঞানের হাত ধরে।
এই প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন সৃষ্টি হয়েছে নানা সম্ভাবনা, তেমনি কিছু ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখিও দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাসী। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কি শুধুই আশীর্বাদ, নাকি এটি আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠা বিজ্ঞান:
বিজ্ঞানের আলোয় পৃথিবী পেয়েছে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে জটিল সব রোগের যেমন ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা এখন অনেকটাই সহজলভ্য। রোবোটিক সার্জারি, টেলিমেডিসিন প্রযুক্তি চিকিৎসাকে পৌঁছে দিয়েছে মানুষের দোরগোড়ায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেকেন্ডেই যোগাযোগ সম্ভব পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির অবদানও অনস্বীকার্য। ডিজিটাল পাঠ্যবই, অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল লাইব্রেরি—সবই শিক্ষাকে করে তুলেছে আরও সহজ ও সর্বজনীন।
কৃষি ও পরিবহন খাতেও বিজ্ঞানের ছোঁয়া এনে দিয়েছে উৎপাদনের গতি এবং চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্য। উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহারে কৃষক যেমন ফসল ফলাতে পারছে আধুনিক পদ্ধতিতে, তেমনি ট্রেন, উড়োজাহাজ ও মেট্রোরেল নগরজীবনকে বানিয়েছে অধিক গতিময়।
অন্ধকারের ছায়াও রয়েছে:
তবে বিজ্ঞানের অন্ধকার দিকও কম নয়। অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের কর্মসংস্থান হ্রাস করেছে। যন্ত্রের বদলে মানুষের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে, যার ফলে বেড়ে যাচ্ছে বেকারত্ব।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। কলকারখানার ধোঁয়া, রাসায়নিক বর্জ্য, ও যানবাহনের গ্যাস—সব মিলিয়ে বিশ্ব আজ বৈশ্বিক উষ্ণতায় আক্রান্ত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি, মোবাইল গেমে ডুবে থাকা, ভার্চুয়াল জগতে সময় নষ্ট—সব মিলিয়ে সামাজিক বন্ধন ক্রমশই আলগা হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হলো প্রযুক্তির অপব্যবহার। পারমাণবিক অস্ত্র, জৈব-রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র কিংবা সাইবার হামলা—এসব আজকে বিশ্বশান্তির বড় হুমকি। ভুয়া খবর, গুজব, ডিজিটাল প্রতারণাও সমাজে সৃষ্টি করছে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক।
শেষ কথাঃ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে এক অভাবনীয় অর্জন। তবে এটিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের জন্য চাই যথাযথ দিকনির্দেশনা, নৈতিকতা ও সচেতনতা। অন্যথায়, এই আশীর্বাদই হয়ে উঠতে পারে মানবজাতির জন্য এক চরম অভিশাপ।
সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তিকে যেন মানবিকতা হারিয়ে না ফেলে, সেজন্যই আজ দরকার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ।
লেখক- গণমাধ্যমকর্মী ও ফিচার লেখক