৪:৪৮ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার | | ৯ রমজান ১৪৪৭




ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব

০৫ মার্চ ২০২৫, ১১:০৭ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪ডেস্ক : একদিন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! এমন কিছু বলুন, যা আমাকে দ্বীনের পথে দৃঢ় রাখবে। 

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার নিয়তকে শুদ্ধ করো, কারণ প্রতিটি কাজের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভর করে। 

এই ছোট্ট কিন্তু গভীরতাপূর্ণ কথাটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি।  ইসলামে প্রতিটি আমলের ভিত্তি হলো নিয়ত।  যদি কোনো ভালো কাজ শুধু লোক দেখানোর জন্য করা হয়, তবে তার কোনো মূল্য নেই।  পক্ষান্তরে, সামান্য একটি আমলও যদি খালিস নিয়তে করা হয়, তবে তা আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান হয়ে যায়। 
নিয়তের বিশুদ্ধতা কেন জরুরি? 

কোরআনে আল্লাহ বলেন,
 
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ তাদের শুধু এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে।  (সুরা আল-বাইয়্যিনা: ৫)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আমাদের প্রতিটি ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।  কোনো কাজ যদি লোক দেখানোর জন্য করা হয়, তবে তা রিয়া বা আত্মপ্রদর্শন হয়ে যায়, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। 

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
 
নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।  (বুখারি ও মুসলিম)

এই হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আমলের মূল হলো নিয়ত।  নিয়ত ঠিক থাকলে ছোট কাজও বড় হয়ে যেতে পারে।  নিয়ত ও আমলের সম্পর্ক, ইসলামে নিয়ত আর আমল একে অপরের পরিপূরক।  উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি দান করে কিন্তু তার উদ্দেশ্য হয় খ্যাতি অর্জন, তাহলে সে দান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।  অপরদিকে, কেউ যদি সামান্য সাহায্য করে কিন্তু তার নিয়ত হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি, তবে তা কবুল হতে পারে। 

একটি ঘটনা থেকে আমরা তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।  এক সাহাবি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! যদি কেউ যুদ্ধ করে খ্যাতি অর্জনের জন্য, তবে সে কি পুরস্কার পাবে?

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না, আল্লাহ শুধু সেই আমল গ্রহণ করেন, যা একমাত্র তাঁর জন্য করা হয়।  (বুখারি ও মুসলিম)

যেকোনো কাজের সওয়াব নির্ভর করে নিয়তের ওপর, আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজও যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, তবে তা ইবাদতে পরিণত হতে পারে। 

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
 
তোমার স্ত্রীকে মুখে তুলে দেওয়া খাবারেও যদি ভালো নিয়ত থাকে, তবে সেটাও সদকাহ হিসেবে গণ্য হবে।  (বুখারি) অর্থাৎ, দাম্পত্য জীবনের ভালোবাসাও যদি খালিস নিয়তে হয়, তবে তাও সওয়াবের কাজ হয়ে যায়। 

আমাদের করণীয় কী?


১. প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করতে হবে – আমরা কেন এই কাজ করছি, তা স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি।  ২. লোক দেখানোর প্রবণতা পরিহার করতে হবে – যদি মনে হয় যে, কেউ আমাদের প্রশংসা করবে বলেই আমরা কাজটি করছি, তাহলে সেটি শুধরে নিতে হবে। 

৩. প্রতিটি আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা – তাহলে সেই আমল কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।  নিয়ত হলো ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা, যা আমাদের প্রতিটি আমলের ভিত্তি।  একজন মানুষ হয়তো সামান্য একটি কাজ করলো, কিন্তু তার নিয়ত যদি খালিস হয়, তবে সেটি আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান হতে পারে।  আমাদের উচিত প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা এবং সবকিছু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা।  আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ নিয়তে আমল করার তৌফিক দিন।  আমিন!


keya